গ্রেফতার উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা রবীন্দ্র কুমার
শেষ আপডেট: 14 March 2025 19:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন আইএসআই-এর (ISI) হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আগ্রা (Agra) থেকে দু'জনকে গ্রেফতার করল উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) এটিএস (Anti Terrorist Squad)। ধৃতদের মধ্যে একজনের নাম রবীন্দ্র কুমার, তিনি ফিরোজাবাদের অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির চার্জম্যান পদে কর্মরত। অভিযোগ মধুফাঁদে (Honey Trap) পড়ে পাকিস্তানে বসে থাকা হ্যান্ডলারের কাছে ফ্যাক্টরির সব গোপন নথি পাঠিয়ে দিচ্ছিলেন তিনি। চার্জম্যান রবীন্দ্র ছাড়াও তার এক সহযোগীকেও একই অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।
সূত্রের খবর, পাকিস্তানে বসে আইএসআই-এর এক মহিলা এজেন্ট ফেসবুকে 'নেহা শর্মা' নামে একটি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করে বলে অভিযোগ। এরপরই রবীন্দ্রকে ফাঁদে ফেলার কাজ শুরু। সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপের সময় এক মহিলা নিজেকে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার একজন এজেন্ট হিসাবে বর্ণনা করেন।
পরে তদন্তে উঠে আসে গত বছর ফেসবুকে 'নেহা শর্মা'-র সঙ্গে রবীন্দ্রর বন্ধুত্ব হয়। টাকার লোভে ফাঁদে পড়ে রবীন্দ্র তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকে অনেক গোপন নথি পাঠান। প্রতিদিনের প্রোডাকশন রিপোর্ট, স্ক্রিনিং কমিটির বিভিন্ন গোপন চিঠি থেকে শুরু করে ড্রোন এবং চন্দ্রযান প্রকল্প সম্পর্কিত তথ্যও শেয়ার করতেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হয় রবীন্দ্রের মোবাইল দেখার পর।
উত্তরপ্রদেশ এটিএস পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করছে এবং অভিযুক্তদের অন্যান্য যোগাযোগের তথ্যও খুঁজে বের করা হচ্ছে। বিষয়টি সামনে আসার পর সাংবাদিক সম্মেলন করে উত্তরপ্রদেশ এটিএসের অভিযোগ, রবীন্দ্র কুমারের মোবাইলের গ্যালারি ঘেঁটে অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির কর্মকর্তা এবং ৫১ গোর্খা রাইফেলসের কর্মকর্তাদের লজিস্টিক ড্রোনের ট্রায়াল সম্পর্কিত একাধিক গোপন তথ্য হাতে এসেছে।
এছাড়াও, ফিরোজাবাদের হযরতপুরে অবস্থিত অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির দৈনিক উৎপাদন রিপোর্ট, ড্রোন, গগনযান প্রকল্প, স্ক্রিনিং কমিটির গোপনীয় চিঠি এবং রিকুইজিশন তালিকার মতো সংবেদনশীল তথ্যও উদ্ধার করা হয়েছে, যা রবীন্দ্র আইএসআই এজেন্টকে পাঠিয়েছিলেন।
জানা গিয়েছে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের যোগাযোগের নম্বরটি রবীন্দ্রর ফোনে 'চন্দন স্টোর কিপার ২' নামে সেভ করা ছিল। তবে আইএসআই-এর গোপন ফাঁদ কারও অজানা নয়। 'হানি ট্র্যাপে' ফাঁসিয়ে মহিলা এজেন্টরা ছেলেদের থেকে অন্য দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গোপন তথ্য হাতিয়ে নেয়।