সৌরভ রাজপুতের সঙ্গে বোন চিঙ্কির হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট
শেষ আপডেট: 20 March 2025 16:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মীরাটে (Meerut) প্রেমিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজের স্বামীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। প্রথমে বিষয়টি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে খুনের ঘটনা বলে মনে হলেও সময় যত গড়াচ্ছে একে একে খুলে যাচ্ছে রহস্যের জট। এবার দাদার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিংয়ের (Whatsapp Chat) ছবি সামনে আনলেন বেসরকারি জাহাজ কোম্পানির অফিসার পদে কর্মরত মৃত সৌরভ রাজপুতের (Saurabh Rajput) বোন চিঙ্কি (Chinki)।
বুধবার তিনি জানিয়েছেন, গত ৮ মার্চ শেষবারের মতো দাদার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে মেসেজ আসে। এর আগে ৬ তারিখে দাদা জানতে চান হোলির সময় তিনি মীরাটে থাকবেন কী না। চিঙ্কিও হ্যাঁ উত্তর দেন। কিন্তু আচমকা দু'দিন পরে আরেকটি মেসেজ আসতেই মনে সন্দেহ হয় বোনের।
চিঙ্কি বলেন, ৮ মার্চ দাদা তাঁকে জানিয়ে দেয়, বর্তমানে সে বাইরে। হোলির পরে ফিরবে। কিন্তু বৌদি মুসকান রাস্তোগি ও দাদার বন্ধু হিসাবে পরিচিত সাহিল শুক্লা যে এতবড় কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলবেন তা ঘুণাক্ষরে বুঝতে পারেননি।
চিঙ্কির আরও অভিযোগ, হোলির আগে বিষয়টিতে যাতে কারও সন্দেহ না হয় সেকারণেই দাদার ফোন ব্যবহার করেই চ্যাট করে মুসকান। যদিও পরে একাধিকবার দাদার নম্বরে যোগাযোগ করলে উত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ সৌরভের বোনের। এরপরই থানায় অভিযোগ জানান পরিবারের লোকজন।
কর্মসূত্রে লন্ডন থাকলেও ২৪ ফেব্রুয়ারী তাঁর ছ'বছরের মেয়ের জন্মদিনে আচমকাই কাউকে না জানিয়ে মীরাটের বাড়ি ফিরে আসেন সৌরভ। পুলিশ জানিয়েছে, মার্চ মাসের ৪ তারিখ সৌরভের খাবারে মুসকান ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয়। ঘুমিয়ে পড়েলেই প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে স্বামীকে খুন করে মুসকান। এরপর দেহ ১৫ টুকরো করে ড্রামে ভরে তাতে সিমেন্ট দিয়ে সিল করে দেয়।
পরে দেহ বাড়িতে রেখেই যাতে কেউ সন্দেহ না করে তার জন্য নতুন গল্প ফাঁদে অভিযুক্ত মুসকান ও প্রেমিক সাহিল। সৌরভকে দেখতে না পেয়ে স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে মুসকান জানায় তার স্বামী বাইরে ঘুরতে গিয়েছেন। এরপর প্রেমিককে নিয়ে উত্তরাখণ্ডে পালিয়ে যায়। সেখানে কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে থেকে সৌরভের ফোন থেকেই বোন চিঙ্কির সঙ্গে যোগাযোগের প্ল্যান আসে মুসকানের মাথায়।
হোলি মিটতেই মার্চের ১৫ তারিখ ফের চিঙ্কির নম্বরে তাঁর দাদার ফোন থেকে মেসেজ পাঠিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়, বন্ধুদের সঙ্গে পার্টিতে যাচ্ছেন তিনি। মীরাটে কবে ফিরবেন বলা সম্ভব নয়। এরপর ১৬ মার্চ দাদার ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ কল করেন সৌরভের বোন। দাদাকে না পেয়ে তাঁর সন্দেহ হয় এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান।