
ভোলে বাবা
শেষ আপডেট: 2 July 2024 20:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর হাথরাসের এক দলিত কিশোরীর গণধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ। মঙ্গলবার দুপুরে সেই হাথরাসই ফের শিরোনামে উঠে এল। এবার এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পদপিষ্ট হয়ে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত আরও অনেক।
এদিন হাথরসের মুঘলাগড়ি গ্রামে একটি সৎসঙ্গের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান শেষ হতেই হুড়োহুড়ি শুরু হয়। তখনই ভিড়ের চাপে প্রাণ হারান অসংখ্য পুণ্যার্থী। আর এই সৎসঙ্গের আয়োজন করেছিলেন নারায়ণ শঙ্কর হরি ওরফে শঙ্কর বিশ্ব হরি। যিনি আবার ভক্তদের কাছে ভোলে বাবা নামে পরিচিত।
কে এই ভোলে বাবা?
ইটাহ জেলার পাটিয়ালি তেহশিলে বাহাদুর গ্রামের বাসিন্দা ভোলে বাবা। সেখানেই রয়েছে তাঁর মূল আশ্রম। যদিও শুরু থেকেই সাধু ছিলেন না সুরজ। একটা সময় পর্যন্ত তিনি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে চাকরি করতেন, অন্তত এমনটাই দাবি তাঁর। ২৬ বছর আগে ধর্মীয় উপদেশ দেওয়ার জন্য তিনি নাকি চাকরি ছেড়ে দেন! তারপর থেকে বাড়ি ছেড়ে গ্রামে এক ঝুপড়ি তৈরি করে সেখানেই থাকতে শুরু করেন।
বেশ কয়েক বছর ধরে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঈশ্বরের নামে প্রচার শুরু করছেন সুরজ। বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান এবং দিল্লি সহ গোটা দেশ জুড়ে তাঁর শিষ্যের সংখ্যা কম নয়। আধুনিক যুগের ধর্মগুরুদের মতো ভোলে বাবাও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকেন। কোনও সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মেই তাঁর কোনও অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট নেই। বেশিরভাগ সময়ই তাঁকে সাদা পোশাকে দেখা যায়।
ধর্ম প্রচারের টাকায় বিভিন্ন জায়গায় সৎসঙ্গের আয়োজন করেন ভোলে বাবা। প্রতি মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে ভোলে বাবার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কয়েক লক্ষ ভক্ত সমাগমের সেইসব সৎসর্গে। মঙ্গলবার তেমনই এক অনুষ্ঠানে ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা।
প্রচন্ড গরমের মধ্যেই এদিন চলছিল এই সৎসঙ্গ অনুষ্ঠান। সেই সময় তাঁবুর ভেতরে একেবারে ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা সকলের। এরই মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ হতেই হুড়মুড় করে বেরোতে যান ভক্তরা। আর তখনই পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান শতাধিক মানুষ।