
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 April 2024 13:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: `পুলিশকে অঙ্গসাজের জন্য অস্ত্র দেওয়া হয়নি`, উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বড়কর্তা প্রশান্ত কুমার এক সাক্ষাৎকারে এনকাউন্টারে খুনের সপক্ষে এই জবাব দিলেন। একটি ইংরেজি সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, পুলিশকে অস্ত্র দেওয়া হয় কাজ করে দেখাতে। সেটা পোশাকের সাজের অঙ্গ নয়। যদিও তাঁর এও দাবি যে, কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নিশানা করা লক্ষ্য নয় পুলিশের। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কারণেই আজ উত্তরপ্রদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে বলে দাবি প্রশান্ত কুমারের।
ইংরেজি সংবাদমাধ্যম `দ্য প্রিন্ট`কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজ্যের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিস (ডিজিপি) বলেন, ধর্ম, জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধীদের কঠোর হাতে দমন করা গিয়েছে। উত্তরপ্রদেশকে লোকে মুখে মুখে এনকাউন্টারের রাজ্য বলে কটাক্ষ করায় পুলিশকর্তার এহেন মন্তব্য আরও ঘৃতাহুতি ঢেলেছে এই বিতর্কে। বেশ কয়েক বছর ধরে অপরাধে অভিযুক্তদের এনকাউন্টারে মৃত্যু হচ্ছে। কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের খবর, মুখ্যমন্ত্রী পদে যোগী আদিত্যনাথ আসার পর থেকে ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ থেকে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ হাজার ৯০০-র বেশি এনকাউন্টার হয়েছে রাজ্যে। প্রশান্ত কুমার জানান, এইসব এনকাউন্টারের গুলিযুদ্ধে পুলিশকর্মীরও মৃত্যু হয়েছে। তাঁর কথায়, আমরাও আমাদের যোদ্ধাদের হারিয়েছি। এটা পেশাগত কাজ। যদি কোনও অপরাধী পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়, তাহলে আমরাও জবাব দেব। যে কোনও পক্ষেরই হতাহত হতে পারে।
প্রতিটি পুলিশ অ্যাকশনের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে। আমরা সে সমস্ত মেনেই চলি। যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে পুলিশের হাতে ক্ষমতা আছে গুলি চালানোর। সবমিলিয়ে তাঁর দাবি, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। যার ফলে সাধারণ মানুষ শান্তিতে বসবাস করছেন। এ কারণে রাজ্যে বিনিয়োগের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন যে, উত্তরপ্রদেশে তোলাবাজি বন্ধ হওয়ায় শিল্পপতিরা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে আসছেন।
প্রশান্ত কুমার বলেন, এই সরকারের একটি পৃথক দৃষ্টিভঙ্গি আছে। আর আইন-শৃঙ্খলার মডেল এখন সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছে। একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের উপরই পুলিশ এনকাউন্টার চালাচ্ছে, এই অভিযোগ অস্বীকার করেন ডিজিপি। অপরাধ দমনে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। আমরা কাউকে আলাদা চোখে দেখি না। অপারেশনের সময় দেখা হয় না, তারা কোন ধর্মের বা কোন জাতের।
উল্লেখ্য, এ বছরের জানুয়ারিতে কুমারকে কার্যনির্বাহী পুলিশ প্রধান করা হয়। আগামী বছরের মে মাসে তাঁর অবসর নেওয়ার কথা। তার আগে তিনি ডিজি আইন-শৃঙ্খলা এবং ডিজি আর্থিক অপরাধ দমন শাখায় কাজ করেছেন।
লোকসভা ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবাধ, স্বচ্ছ এবং হিংসামুক্ত সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। রাজ্যে শান্তি থাকায় গত পাঁচ বছরে বিদেশি বিনিয়োগ ৪০০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপি সরকারের নাম না করে বলেন, আমরা অপরাধ দমনে অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার পেয়েছি। গ্যাংস্টার থেকে রাজনীতিক হওয়া জেলবন্দি মুখতার আনসারির মৃত্যুতে কোনও রহস্য ছিল, একথা মানতে রাজি নন প্রশান্ত কুমার। আনসারিকে সমস্তরকম চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি পুলিশ কর্তার।