
উত্তরপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
শেষ আপডেট: 15 July 2024 12:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের ফলেই ডুবেছে বিজেপি। দল ও কর্মীদের মধ্যে লোকসভা ভোটে জেতা নিয়ে আত্মবিশ্বাস শিখর-স্পর্শ করায় সব আশা জলে গিয়েছে। দলের ক্ষতি করেছে। কংগ্রেস কিংবা বিরোধী দলের কেউ নন, বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতা তথা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দলের ভরাডুবির ব্যাখ্যা এই ভাষাতেই করলেন।
দলের শক্ত ঘাঁটি উত্তরপ্রদেশে এবার লোকসভায় এককথায় ভরাডুবি হয়েছে পদ্ম শিবিরের। সেই ক্ষতের ময়নাতদন্ত ও আগামী বিধানসভা উপনির্বাচন, ২০২৭ সালের ভোট নিয়ে কাজে নেমে পড়ার ডাক দেওয়া হয়েছে। সেই উপলক্ষে গত রবিবার, লখনউতে দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছিল বিজেপি। সেখানে ভাষণে রাজ্যে দলের বিপর্যয়ের জন্য অত্যন্ত ক্ষুণ্ণ আদিত্যনাথ কর্মীদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসকে দায়ী করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির কাঙ্ক্ষিত ফল না হওয়ার জন্য দায়ী জেতার ব্যাপারে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস। যদিও ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন খোদ আদিত্যনাথই।
রবিবার আদিত্যনাথ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে আমরা বিরোধীদের উপর লাগাতার চাপ সৃষ্টি তৈরি করে গিয়েছি। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিজেপির বিভিন্ন আন্দোলনে চাপের মুখে ছিল বিরোধীরা। মাঝখানে দুটি বিধানসভা নির্বাচনেও এর অন্যথা হয়নি। আগের নির্বাচনগুলিতে বিজেপির যে ভোট শতাংশ ছিল, এবারেও তা রয়েছে। কিন্তু, আমাদের ভোট অন্য বাক্সে চলে যাওয়ায় এবং বিশেষত কর্মীদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস আশাহত করেছে দলের ফলাফলকে।
এই কারণেই যে বিরোধী দলগুলি প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে বসেছিল, আজ তারাই বুক ফুলিয়ে ঘুরছে, বলে দলের কঠোর সমালোচনা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। লখনউয়ের রামমনোহর লোহিয়া জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভীমরাও আম্বেদকর অডিটোরিয়ামে আয়োজিত রাজ্য বিজেপির ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ভাষণ দিচ্ছিলেন যোগী।
লোকসভা ভোটের পর রাজ্যে এটাই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ছিল দলের। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাও। সেই মঞ্চে যোগী ক্ষোভের সুরে বলেন, যে রাজ্যে বিরোধীরা ভেন্টিলেটরে চলে গিয়েছিল, সেখানে তারাই নতুন অক্সিজেন পেয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে উত্তরপ্রদেশের লোকসভা ভোটে বিজেপি ৬২ আসনে জিতেছিল। সেখানে এবার তারা হাতে পেয়েছে মাত্র ৩৩টি।
আদিত্যনাথ এই রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে দলের কর্মীদের এই মুহূর্তে মাঠে নেমে পড়ার নির্দেশ দেন। কারণ কিছুদিনের মধ্যেই রাজ্যের ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন আছে। তারপরেই রয়েছে ২০২৭ সালের বিধানসভা ভোট। এদিন থেকেই ভোটের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকে নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর কথায়, আমরা ফের রাজ্যে বিজেপির পতাকা উঁচুতে তুলে ধরতে চাই।