
আমেরিকা থেকে ফিরলেন ভারতীয়রা।
শেষ আপডেট: 16 February 2025 16:29
যাঁরা অবৈধভাবে আমেরিকায় গিয়েছিলেন, তাঁরা কঠিন পাহাড়ি পথ, গভীর জঙ্গল, সমুদ্র পার হয়ে ঢুকতে পেরেছিলেন সে দেশে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় অনেকেই দালালদের কাছে লক্ষ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন। এই 'ডানকি' রুট নিয়ে বিস্তর আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, আমেরিকার কড়া অভিবাসন নীতির শিকার হয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে তাঁদের।
পাঞ্জাবের নওয়ানকোটের বাসিন্দা মঙ্গল সিং জানালেন, বিমানবন্দরে নিতে এসেছেন নাতি যশনূর সিং-কে। তিনি বললেন, 'দালাল বলেছিল, সরাসরি আমেরিকায় নিয়ে যাবে। কিন্তু নাতিকে প্রথমে কলম্বিয়ায় রাখা হয় সাড়ে ৩ মাস, এরপর জাহাজে করে পানামা পাঠানো হয়। সেখান থেকে গভীর জঙ্গল পার হয়ে যেতে হয় দীর্ঘ পথ। দিনে দু'বার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। শেষ দিকে আমরা দেখতাম, ওর গোটা শরীর ক্ষতবিক্ষত, ক্লান্ত। তখনই বুঝতে পারি, ভুল করেছি আমরা।'
ফিরোজপুরের সৌরভ বিমান থেকে নামার পরে বললেন, 'আমাকে সীমান্ত পার করানোর জন্য ৪৫ লক্ষ টাকা নেয় দালাল। প্রথমে মালয়েশিয়ায় এক সপ্তাহ, এরপর ১০ দিন মুম্বইতে, তারপর আমস্টারডাম, পানামা, টাপাচুলা এবং মেক্সিকো সিটি হয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তিন-চার দিন হেঁটে আমেরিকায় ঢুকি। কিন্তু ঢোকার মাত্র দু'তিন ঘণ্টার মধ্যেই ধরা পড়ে যাই।'
এখানেই শেষ নয়। সৌরভ বলেন, 'ধরা পড়ার পর আমাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে একটা ক্যাম্পে রাখা হয় ১৫-১৮ দিন। আমাদের কোনও কথাই শোনা হয়নি, কোনও কাগজপত্রও নেওয়া হয়নি। শুধু হাত-পা শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছিল এবং বিমান ছাড়ার সময় বলা হয়, আমাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে।'
এমনই এক যুবক গুরবচন সিং-এর বাবা যতিন্দর পাল সিং বলেন, তাঁরা ছেলের অভিবাসনের জন্য ৫০ লক্ষ টাকা খরচ করেন, কিন্তু জানতেন না ছেলেকে এত কঠিন পথে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি বলেন, 'দেশে কাজের সুযোগ না থাকায় ছেলেকে বাইরে পাঠানো ছাড়া উপায় ছিল না।'
এদিকে ভারতে ফেরত আসা সৌরভ, গুরবচন, যশনূরদের পরিবার এখন দিশাহীন। বাড়ির ছেলেকে আমেরিকা পাঠাতে জমি বিক্রি করা হয়েছে, ঋণ নেওয়া হয়েছে। প্রায় নিঃস্ব হয়েছে এক একটি পরিবার। আশা ছিল, ছেলে আমেরিকা গিয়ে ডলারে উপার্জন করবে, বাড়িতে টাকা পাঠাবে। এখন সামনে কেবলই অন্ধকার। তাঁরা পাঞ্জাব সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন, যেন ফেরত আসা যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।