ভারতের মতো বিশাল এবং দক্ষিণ এশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্রদূত বাছাই করা নিয়ে অনেকেই বিস্মিত। বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়ে এই অঞ্চলের সঙ্গে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে। মার্কিন স্কলারশিপ বিভাগের দায়িত্ব সামলানোর সময়ে যতটুকু ধারণা হয়েছে। তাকে অভিজ্ঞতা বলা চলে না।

শেষ আপডেট: 11 November 2025 11:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোয়াইট হাউসে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছায়া সঙ্গী বলে পরিচিত। মার্কিন প্রেসিডেন্টর দায়িত্বে থাকা কর্মী-আধিকারিকদের অধিকর্তার পদ সামলেছেন সের্গিও গোর । ৩৯ বছর বয়সি এই ব্যক্তিগত আধিকারিককে ভারতে আমেরিকার নতুন রাষ্ট্রদূত হিসাবে আগেই বাছাই করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতীয় সময় মঙ্গলবার ভোরে গোর শপথ বাক্য পাঠ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছাড়াও মার্কিন কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শপথ অনুষ্ঠানের ভাষণে ট্রাম্প ভারতে নতুন রাষ্ট্রদূতকে তার করণীয় বুঝিয়ে দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন ভারত আমাদের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধু। এই বন্ধুত্ব গভীর থেকে গভীরতর করে তোলাই হবে গোরের প্রধান কাজ। ট্রাম্প বলেছেন, আমি মনে করি এই কাজটা গর সবচেয়ে ভাল করবেন। এতদিন যারা দায়িত্বে ছিলেন তাঁদের তুলনায় অনেক বেশি দায়িত্ববান হলেন গোর। ভারতে নবনিযুক্ত এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত নয়াদিল্লি ছাড়াও মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক কূটনৈতিক বিষয় দেখভাল করবেন। ফলে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান, চিন ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আগামী দিনে কোন দিকে গড়াবে তা ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ এই মার্কিন আধিকারিক এর উপর অনেকটা নির্ভর করছে।
গোর মার্কিন প্রেসিডেন্টের এতই ঘনিষ্ঠ যে তাঁকে ভারতে রাষ্ট্রদূত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকে বলাবলি শুরু হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের অর্থ ট্রাম্প নিজেই ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসাবে নয়াদিল্লি আসছেন। কেউ বলছেন, হোয়াইট হাউসে তাঁর 'পুতুল'-কে ভারতের রাষ্ট্রদূত করে পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প। স্বভাবতই একই সঙ্গে চর্চা শুরু হয়েছে, ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তের পিছনে আসল উদ্দেশ্য কী।
বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে যখন ভারত-মার্কিন সম্পর্ক অনেকটাই অত্যন্ত খারাপ থেকে ক্রমশ ভালোর দিকে এগোচ্ছে তখন হোয়াইট হাউসে কার্যত ট্রাম্প তাঁর এক ব্যক্তিগত সহকারীকে উপমহাদেশের তিন গুরুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব অর্পণকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছে কূটনৈতিক মহল। গোরের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা একাধিক কারণের মধ্যে দুটি হল, গত বছর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে গোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দ্বিতীয় কারণ হল, ট্রাম্পের সমৃদ্ধ আমেরিকা প্রচারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন হোয়াইট হাউসের এই আধিকারিক।
সের্গিও গোর জন্মসূত্রে উজবেক। উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে জন্ম। তাঁর পুরো নাম সার্জিও গরকোভস্কি। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের পর ছয় বছর বয়সি গোরকে নিয়ে তাঁর বাবা-মা আমেরিকায় পাড়ি দেন। গোরকে ভারতের মতো বিশাল এবং দক্ষিণ এশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্রদূত বাছাই করা নিয়ে অনেকেই বিস্মিত। বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়ে এই অঞ্চলের সঙ্গে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে। মার্কিন স্কলারশিপ বিভাগের দায়িত্ব সামলানোর সময়ে যতটুকু ধারণা হয়েছে। তাকে অভিজ্ঞতা বলা চলে না।