ভারত-পাক যুদ্ধবিরতির (India Pakistan Ceasefire) পর দুই দেশের সঙ্গেই বাণিজ্য বাড়ানোর কথা বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। অথচ মার্কিন সংস্থাকেই ভারতে ব্যবসা করতে বারণ করছেন তিনি।

টিম কুক ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 15 May 2025 17:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-পাক যুদ্ধবিরতির (India Pakistan Ceasefire) পর দুই দেশের সঙ্গেই বাণিজ্য বাড়ানোর কথা বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। অথচ মার্কিন সংস্থাকেই ভারতে ব্যবসা করতে বারণ করছেন তিনি। অ্যাপেল (Apple) সংস্থার সিইও টিম কুক-কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, ভারতে অ্যাপেলের কারখানা খুলুক, তা তিনি একেবারেই চান না। তাঁর মতে ভারত নিজেই নিজের খেয়াল রাখতে পারে।
দোহায় একটি বাণিজ্য সম্মেলনের অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের দাবি, টিম কুকের (Tim Cook) সঙ্গে তাঁর একটা সামান্য সমস্যা হয়েছিল ঠিকই, তবে এখন তাঁরা বন্ধু। সেই বন্ধুর নাম করেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "আমি ওঁকে বললাম, বন্ধু, তোমার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করছি, ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাচ্ছ। কিন্তু শুনছি নাকি তোমরা ভারতের একাধিক জায়গায় কারখানা তৈরি করছ।"
ট্রাম্পের উপদেশ, তিনি চান না কুক ভারতে কারখানা তৈরি করুক। তাঁর কথায়, "যদি ভারতের দেখাশোনা করতে চাও, তাহলে সেখানে কারখানা তৈরি করতেই পারো। কিন্তু ভারত বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ট্যারিফ নেওয়া দেশ। তাই ভারতে কিছু বিক্রি করাও কঠিন কাজ হবে।"
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ভারত নাকি মার্কিন মুলুককে প্রস্তাব দিয়েছে যে তারা তাদের পণ্যে কোনও ট্যারিফ নেবে না। যদিও ভারত এমন কোনও ঘোষণা করেনি।
ট্রাম্পের কথায়, "ওরা এমন এক প্রস্তাব দিয়েছে যেখানে কার্যত কোনও ট্যারিফই নেবে না। আমি টিম-কে বললাম, এত বছর ধরে চিনে তোমরা কারখানা তৈরি করেছ, আমরা তা সহ্য করেছি। কিন্তু ভারতে কারখানা তৈরি করো, সেটা চাই না। ভারত নিজের খেয়াল নিজেরাই রাখতে পারে।" সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এও জানান যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপেল তাদের আইফোন, ম্যাকবুকের উৎপাদন বাড়াবে।
ভারত-পাক যুদ্ধবিরতি চুক্তির একদিন পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট (US President) তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ট্রুথে লিখেছিলেন, "ভারত ও পাকিস্তানের শক্তিশালী এবং অটল নেতৃত্বের জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত। কারণ তাদের শক্তি, প্রজ্ঞা এবং সাহস রয়েছে। দুই দেশই বুঝতে পেরেছে যে এবার আগ্রাসন বন্ধ করার সময় এসেছে। দু'পক্ষের সাহসী পদক্ষেপ সত্যিই উল্লেখযোগ্য।
একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, কয়েক দশক ধরে চলা কাশ্মীর সমস্যা (Kashmir Issue) মেটাতেও তিনি আগ্রহী। শুধু তাই নয়, উভয় দেশের সঙ্গেই বাণিজ্য সম্পর্ক মজবুত করবে মার্কিনমুলুক। কিন্তু ট্রাম্পের মর্জি হোক বা খেয়াল, দোহার বাণিজ্য অনুষ্ঠানে মঞ্চে অ্যাপেলকে উপদেশ দেওয়ার ব্যাপারটা যথেষ্ট ছন্দপতন বলে মনে করা হচ্ছে।