Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

পুরসভার উর্দু সাইনবোর্ড নিয়ে মামলা, বহুত্ববাদের কথা মনে করিয়ে খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট

উর্দু ভাষা নিয়ে ধর্মীয় বিভাজনের ধারণা সরিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। মহারাষ্ট্রের পাতুর পুরসভার সাইনবোর্ডে উর্দু ব্যবহারের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদন খারিজ করল সর্বোচ্চ আদালত।

পুরসভার উর্দু সাইনবোর্ড নিয়ে মামলা, বহুত্ববাদের কথা মনে করিয়ে খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট

সুপ্রিম কোর্ট

শেষ আপডেট: 16 April 2025 12:12

দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'কোনও ভাষা মানেই তা নির্দিষ্ট কোনও ধর্ম নয়'— এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণকে সামনে রেখে পুরসভার সাইনবোর্ডে উর্দু ব্যবহারের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়া ও বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ মহারাষ্ট্রের পাতুর পুরসভার সাইনবোর্ড নিয়ে এই রায় ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, মহারাষ্ট্রের আকোলা জেলার পাতুর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর বর্ষতাই সঞ্জয় বাগাড়ে দাবি করেছিলেন, পুরসভার কাজ শুধুমাত্র মারাঠি ভাষায় হওয়া উচিত এবং উর্দু ভাষার ব্যবহার, এমনকি সাইনবোর্ডেও, আইনসঙ্গত নয়।

এ দাবিতে পুরসভা ও পরে বম্বে হাইকোর্টে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু এখানেও তাঁকে হতাশ হতে হল। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, ভাষা কোনও ধর্মের প্রতিনিধি নয়। উর্দুকে কেবল মুসলমানদের ভাষা হিসেবে দেখার প্রবণতা ভারতের বহুত্ববাদী ঐক্যের বিপরীতমুখী। একে 'করুণ বিচ্যুতি' বলেও উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছে, 'কোনও জাতি, অঞ্চল, জনগোষ্ঠীর সম্পদ হল তার ভাষা। এটি কোনও ধর্মের সম্পত্তি বা মুখপত্র নয়। ভাষা হল সংস্কৃতি, সভ্যতার বিকাশের এক মাপকাঠি।' শীর্ষ আদালত আরও বলে, উর্দু হল গঙ্গা-যমুনা তহজীব বা হিন্দুস্তানি মিলিত সংস্কৃতির এক উৎকৃষ্ট নিদর্শন, যা উত্তর ও মধ্য ভারতের সমভূমিতে গড়ে উঠেছে।

এই মামলায় উর্দু সাইনবোর্ড রাখার পক্ষে পুরসভার যুক্তি ছিল, স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ উর্দু বোঝেন, তাই কার্যকর যোগাযোগের জন্য সাইনবোর্ডে উর্দুর ব্যবহার রাখা হয়েছে। এই যুক্তিকে সমর্থন জানিয়ে আদালত বলেছে, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনই ভাষার মূল কাজ এবং প্রশাসনের উদ্দেশ্যও সেটাই হওয়া উচিত।

শীর্ষ আদালত তার পর্যবেক্ষণে আরও উল্লেখ করেছে, উর্দু কোনও বিদেশি ভাষা নয় বরং মারাঠি ও হিন্দির মতোই একটি ভারতীয় ভাষা। এটি ইন্দো-আর্য ভাষা গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এবং ভারতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিকশিত হয়েছে। আদালত বলে, 'এই ভাষা তৈরি হয়েছিল বিভিন্ন সংস্কৃতি ও জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং যোগাযোগের প্রয়োজনে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি পরিণত হয়েছে এবং বহু কবি এই ভাষায় অনন্য সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন।'

আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, 'আমরা প্রতিদিনের কথাবার্তায় অসংখ্য উর্দু ও নানা বিদেশি শব্দ ব্যবহার করি, হয়তো নিজেরাও তা জানি না। 'হিন্দি' শব্দটিও এসেছে ফারসি 'হিন্দাভি' থেকে।'

তবে, আদালত এও বলেছে, উর্দু ও হিন্দির সংমিশ্রণ যে পথে এগোচ্ছিল, তা রুদ্ধ হয়েছিল উভয় দিকের কট্টরপন্থীদের কারণে। ফলে হিন্দি অধিকতর সংস্কৃতঘেঁষা এবং উর্দু অধিক ফারসিভাষার দিকে ঝুঁকে পড়ে। এই ভাষাগত বিভাজনকেই ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবহারের সুযোগ নিয়েছিল ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো। আদালত বলেছে, 'হিন্দিকে হিন্দুদের এবং উর্দুকে মুসলমানদের ভাষা হিসেবে চিহ্নিত করা দুঃখজনক। এটি আমাদের বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যে ও সার্বজনীন ভ্রাতৃত্ববোধের ধারণাকে আঘাত করে।'

আদালত আরও মনে করিয়ে দিয়েছে, একটি পুরসভা স্থানীয় জনগণকে দৈনন্দিন পরিষেবা দেয়। ফলে যদি কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায় উর্দুতে স্বচ্ছন্দ হন, তাহলে মারাঠির পাশাপাশি উর্দুর ব্যবহার নিয়ে কোনও আপত্তি থাকা উচিত নয়। ভাষা কখনওই বিভাজনের মাধ্যম নয়, বরং তা ভাব বিনিময়ের হাতিয়ার, যা মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলে।'

পরিশেষে আদালত জানিয়েছে, ২০২২ সালের মহারাষ্ট্র স্থানীয় প্রশাসনিক ভাষা আইনে সাইনবোর্ডে মারাঠি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও উর্দুর ব্যবহারে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আবেদনকারীর মামলা একেবারে আইনের ভুল ব্যাখ্যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তাই এতে হস্তক্ষেপের কোনও প্রয়োজন নেই। এই বলে আবেদনটি খারিজ করে দেন বিচারপতিরা।


```