দেশের প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য (Heritage) ও আধুনিক চিন্তাকে (Modern Thoughts) তুলে ধরতে ছবি আঁকা ৫৬টি গল্পের বই প্রকাশের পরিকল্পনা।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 25 October 2025 14:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উর্দু ভাষায় (Urdu Literature) শিশু সাহিত্যকে নতুন প্রাণ দিতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনস্থ স্বশাসিত সংস্থা ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর প্রোমোশন অব উর্দু ল্যাঙ্গোয়েজ (NCPUL)। সংস্থাটি চালু করেছে এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প— দেশের প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য (Heritage) ও আধুনিক চিন্তাকে (Modern Thoughts) তুলে ধরতে ছবি আঁকা ৫৬টি গল্পের বই প্রকাশের পরিকল্পনা। ইতিমধ্যে ২২টি বই প্রকাশিত হয়েছে।
এই বইগুলো তৈরি হচ্ছে ৮ থেকে ১২ এবং ১২ থেকে ১৮ বছরের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য। বিষয়বস্তুতে আছে ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তি— যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবটিক্স, মোবাইল ব্যবহারের নৈতিক দিক। এমনকি মহারাষ্ট্রের পালখি উৎসব বা দিল্লির ‘ফুলওয়ালোঁ কি সায়র’-এর ইতিহাসও রাখা হয়েছে সিলেবাসে।

NCPUL-এর ডিরেক্টর ড. শামস ইকবাল বলেন, “অনেকদিন ধরে উর্দু শিশু সাহিত্য পারস্য ও আরব সংস্কৃতির প্রভাবেই তৈরি হয়েছে। ভারতীয় মাটির গন্ধ সেখানে অনুপস্থিত। এবার আমরা চাই উর্দু গল্পে ফুটে উঠুক ভারতের উৎসব, নায়ক ও মানুষের জীবন যাপনের কথা। যাতে বাচ্চারা নিজেদের বাস্তব জীবনের সঙ্গে এই ভাষার সঙ্গে যুক্ত করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতের মতো বহু ভাষা ও সংস্কৃতির দেশে প্রতিটি শিশুরই নিজের সংস্কৃতি, উৎসব ও বাস্তব জীবনের গল্প নিজের ভাষায় পাওয়া জরুরি। এভাবেই উর্দু ভাষা নতুন প্রজন্মের কাছে জীবন্ত ও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে।”
এই উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছেন দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট উর্দু লেখকরা— সহিত্য আকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত জাকিয়া মাশহাদি, প্রফেসর ইজাজ আলি আরশাদ, নাইমা জাফরি পাশা, শিশু সাহিত্যিক মহম্মদ সিরাজ আজিম ও ইকবাল বারকি প্রমুখ।
প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে মীরা বাঈ-এর জীবন, মহারাষ্ট্রের ‘পালখি’ উৎসব, দিল্লির ‘ফুলওয়ালোঁ কি সায়র’, গৌতম বুদ্ধের জীবন, লেজিম নৃত্য-সহ নানা আঞ্চলিক লোকনৃত্য ও খুব একটা আলোচনা হয়নি এমন স্বাধীনতা সংগ্রামী মজহারুল হকের গল্প।
ড. ইকবাল বলেন, “আমরা চাই বাচ্চারা শুধু নৈতিক শিক্ষা নয়, চিন্তা ও কৌতূহলের অনুশীলন করুক। তাই গল্পগুলিতে রাখা হয়েছে সংস্কৃতি, ইতিহাস ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়।”
এই প্রথম উর্দু ভাষায় প্রকাশিত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্স-ভিত্তিক শিশু সাহিত্য। গল্পের মাধ্যমে শেখানো হচ্ছে মোবাইল ফোন ব্যবহারের দায়িত্বশীলতা, এআই-এর নৈতিক দিক এবং প্রযুক্তির সামাজিক প্রভাব।
সম্প্রতি এনসিপিইউএল শিশুদের নিয়ে এক কর্মশালা আয়োজন করে, যেখানে ৮ থেকে ১৮ বছরের পাঠকরা বইয়ের খসড়া পড়ে মতামত দেয়। সেই মতামতই যুক্ত করা হয়েছে চূড়ান্ত সংস্করণে।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের অধ্যাপক মহম্মদ কাজিম বলেন, “উর্দুতে ভারতীয় উৎসব, সংস্কৃতি বা সমসাময়িক বিষয়ভিত্তিক শিশু সাহিত্য প্রায় নেই বললেই চলে। অন্য ভাষায় এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর বই আগেই এসেছে, কিন্তু উর্দুতে এ উদ্যোগ অভাবনীয়।”
এনসিপিইউএল জানিয়েছে, শীঘ্রই এই বইগুলির দ্বিভাষিক সংস্করণ প্রকাশ করা হবে—উর্দু-হিন্দি এবং উর্দু-ইংরেজি মিলিয়ে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী বহু ভাষার শিক্ষাপদ্ধতিকে উৎসাহিত করতেই এই পদক্ষেপ।