
প্রিয়াঞ্জা সোনি
শেষ আপডেট: 5 April 2025 12:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পিরিয়ড হলে পুজো দেওয়া যায় না। কম-বেশি সব মহিলারাই ছোট থেকে এমন শিখে এসেছেন। এই সামাজিক ট্যাবুর জেরেই আত্মঘাতী হলেন এক মহিলা। ঘটনা উত্তরপ্রদেশের।
নবরাত্রি শুরু হয়েছে ৩০ এপ্রিল। প্রতিবছরের মতো এবছরও বিরাট আয়োজন ছিল প্রিয়াঞ্জা সোনি (৩৬)-র। প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন অনেকদিন ধরেই। কিন্তু ওইদিন প্রিয়াঞ্জার পিরিয়ড হয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন। পুজো দিতে পারবেন না জেনে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। এই ঘটনা শুনে তাজ্জব সকলে।
কয়েকদিন ধরেই ঘর সাজাচ্ছিলেন তিনি। ফুল, ফল, মিষ্টি, প্রদীপ সবকিছুই কেনা হয়ে গেছিল। রবিবার আচমকাই পিরিয়ড শুরু হতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে জানান তাঁর স্বামী। সেখান থেকেই হতাশার জেরে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন।
প্রিয়াঞ্জার স্বামী বলেন, 'ও সারা বছর ধরে এই পুজোর জন্য অপেক্ষা করত। কিন্তু যেদিন নবরাত্রি শুরু হল, সেদিনই ও পুজো করতে পারল না। রাখতে পারল না উপোসও। খুবই কষ্ট পাচ্ছিল। আমি বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম যে এটা স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক বিষয়, এতে দোষের কিছু নেই। আমি বলেছিলাম, আমি ওর হয়ে সমস্ত পুজো করে দেব। কিন্তু ও কিছুতেই মানতে পারছিল না।'
সেদিন সকালে কাজের জন্য বেরিয়ে পড়েন প্রিয়াঞ্জার স্বীমা মুকেশ। তারপর স্ত্রীর কান্না শুনে ফিরে আসেন বাড়ি। মন খারাপ দেখে কিছুক্ষণ তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে আবার কাজে বের হন। এরপরই প্রিয়াঞ্জা বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হন বলে অভিযোগ। তৎক্ষণাৎ তাঁকে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসার পর প্রাথমিকভাবে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং কিছুদিনের জন্য নিজের বাবা-মায়ের বাড়িতে পাঠানো হয়, যাতে মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পান।
কিন্তু কিছুদিন পর তাঁর শারীরিক অবস্থার আবার অবনতি হয়। মুকেশ সোনি বলেন, 'রাত আড়াইটে নাগাদ প্রিয়াঞ্জা বমি করতে থাকে এবং পিঠে ব্যথা হচ্ছিল বলে জানায়। আমি ভেবেছিলাম হয়তো পিরিয়ডের কারণে এই সমস্যা হচ্ছে। তখনই ওকে সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। পরের দিন দুপুর দেড়টার দিকে ও আমাকে খেতে বলল। আমি বললাম আমার খিদে নেই, আমি ওকে একা ফেলে কোথাও যাচ্ছি না। তখন ও জোর করে বলল আমাদের দু’জনের জন্য জুস আনতে। আমি বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়, এবং মাত্র ১৫–২০ মিনিটের মধ্যেই ও মারা যায়।'
প্রিয়াঞ্জার মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না তাঁর পরিবার। স্বামী মুকেশ ছাড়াও তাঁর ছোট্ট দুটি মেয়ে রয়েছে। তাঁদের নিয়ে রীতিমতো দিশেহারা মুকেশ।
ঘটনা জানাজানি হতে অনেকেই সামাজিক ট্যাবু নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কুসংস্কার দূরে রাখার বার্তাও দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন সংঠনের তরফে।