
শেষ আপডেট: 15 December 2023 00:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিচারের বাণী সত্যিই নীরবে নিভৃতে কাঁদছে। নয়তো এমন কি হওয়ার কথা ছিল? আমজনতাকে ন্যায় বিচার পাইয়ে দেওয়ার দায়িত্ব যাঁর উপর ন্যস্ত, তাঁর সঙ্গে অন্যায় হলে বিচার করবে কে? শারীরিক, মানসিক হেনস্থার শিকার হওয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে দ্বারস্থ হয়েও কোনও লাভ হয়নি। বিচার পাওয়া তো দূর, তার প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। এরপরেই চূড়ান্ত হতাশা থেকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানালেন যোগীরাজ্যের এক মহিলা বিচারক।
উত্তরপ্রদেশের বান্দা সিভিল আদালতের বিচারক অর্পিতা সাহু সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়কে চিঠি লিখে পুরো ঘটনা জানিয়েছেন। সেখান থেকেই জানা গেছে, গত বছর বরাবাঁকি জেলায় বিচারক হিসেবে চাকরি করার সময় জেলা আদালতের এক বিচারকের কাছে চূড়ান্ত শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি। ওই বিচারক রাত্রিবেলা বাড়িতেও ডেকে পাঠিয়েছিলেন তাঁকে।
সেই ঘটনায় তিনি এলাহাবাদ হাইকোর্টে অভিযোগ দায়ের করে জেলা আদালতের বিচারকের বিরুদ্ধে শাস্তি চেয়েছিলেন। কিন্তু যে ঘটনার বিচার তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ার কথা, সেই জায়গায় ৬ মাস পরও তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি! এলাহাবাদ হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত একটি রিট পিটিশন দাখিল করলেও সেটিও খারিজ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন অর্পিতা।
এতেই চূড়ান্ত হতাশ হয়ে বিচারক অর্পিতা সাহু সমস্ত ঘটনার বিবরণ দিয়ে চিঠি লিখেছেন প্রধান বিচারপতিকে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, নিজে বিচারক হয়েও তিনি যেখানে বিচার পাচ্ছেন না, সেখানে সাধারণ মানুষ কীভাবে বিচার পাবেন? প্রতিদিন অন্য জেলায় গিয়ে মামলার অগ্রগতির জন্য তাগাদা করতে গিয়ে নতুন করে একপ্রস্থ হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে তাঁকে, অভিযোগ করেছেন অর্পিতা।
নিত্যদিনের এই ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতেই প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তবে প্রধান বিচারপতি এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় অর্পিতাকে কোনও জবাব দিয়েছেন কিনা তা জানা যায়নি।