অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মারধরের পর কাউকে কিছু না বলার জন্য শিশুটিকে হুমকিও দেওয়া হয়। মুখ না খোলার জন্য তাকে বিস্কুটও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

শেষ আপডেট: 7 February 2026 17:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোমওয়ার্ক না করার অপরাধে দ্বিতীয় শ্রেণির এক পড়ুয়াকে নির্মমভাবে মারধরের (UP teacher beats student) অভিযোগ উঠেছে এক বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, লাঠি দিয়ে ওই শিশুকে '১৫০ বার' আঘাত করা হয়, যার ফলে তার পায়ে আঘাতের চিহ্ন ও ফুলে যাওয়ার লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে ফুটে ওঠে (Child abuse Corporal punishment)।
ইন্ডিয়া টুডে-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের গোন্দা জেলার কর্নাইলগঞ্জ এলাকায়। অভিযোগ, এমআরজি স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক প্রকাশ সিং ১০ বছরের ওই পড়ুয়াকে মারধর করেন (Gonda school assault), কারণ সে হোমওয়ার্ক শেষ করতে পারেনি।
শিশুটির বাবা পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে জানান, ওই শিক্ষক তাঁর ছেলেকে বারবার লাঠি দিয়ে মারেন। লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষক ‘১৫০ বার’ লাঠির আঘাত করেন। এই মারধরের ফলে শিশুটির পায়ে তীব্র যন্ত্রণা ও মারাত্মক ফোলাভাব দেখা দেয়।
স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় ছেলেটি খুঁড়িয়ে হাঁটছিল। বাড়িতে পৌঁছনোর পর পরিবারের সদস্যরা তার পায়ে আঘাতের দাগ দেখে হতবাক হয়ে যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মারধরের পর কাউকে কিছু না বলার জন্য শিশুটিকে হুমকিও দেওয়া হয়। মুখ না খোলার জন্য তাকে বিস্কুটও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এমনকী, বিষয়টি প্রকাশ করলে আরও মারধর করা হবে বলেও ভয় দেখানো হয়।
ছেলের শারীরিক অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে প্রথমে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বাবা। পরে তিনি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর এমআরজি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। “বিষয়টি আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ইংরেজির ওই শিক্ষককে স্কুল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে,” বলেন তিনি।
কর্নাইলগঞ্জের সার্কেল অফিসার অভিষেক দাবাচা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই ঘটনায় ধারা ১১৫(২), ৩৫১(৩) এবং ৩৫২ অনুযায়ী মামলা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
“ঘটনাটি কর্নাইলগঞ্জ থানার আওতাধীন এমআরজি স্কুলে ঘটেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বিশেষ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে,” বলেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।