
প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 18 April 2025 10:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চরিত্র ভাল নয়—একমাত্র এই সন্দেহে নিজের ১৪ বছরের কিশোরী কন্যাকে খুন করে তাকে বাড়ির পেছনের উঠোনে মাটি চাপা দিয়ে দিলেন এক মা। চার বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর, উত্তরপ্রদেশের একটি আদালত অবশেষে সেই অভিযুক্ত মাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে ২০২০ সালের এপ্রিলে। এক ব্যক্তি পুলিশকে জানান যে, তাঁর খুড়তুতো বোন কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ। ১৪ বছরের ওই মেয়েটির বাবা একজন পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিনজেলায় কাজ করছিলেন এবং তিনিও মেয়ের কোনও খোঁজ জানতেন না।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্তে নামে পুলিশ। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদের পর ২০২০ সালের ৪ মে মেয়েটির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। নিজের বাড়িরই পেছনের উঠোনে পুঁতে রাখা হয়েছিল তাকে। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেহ তোলা হয়, ময়নাতদন্তও হয়। খুনের প্রমাণ মেলে।
এরপর মেয়েটির মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি খুনের কথা স্বীকার করেন। পুলিশের দাবি, মেয়ের চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করতেন মা এবং সেই কারণেই তাকে হত্যা করেন। খুনের পর দেহ লুকোনোর জন্য মাটির নীচে পুঁতে দেন।
তদন্ত শেষ করে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে আদালতে। প্রসিকিউশন পক্ষের আইনজীবী জানান, অভিযুক্ত ও মায়ের মনে হয়েছিল, তাঁর কিশোরী মেয়ের চরিত্র সন্দেহজনক। সেই ভুল ভাবনা থেকেই এমন মর্মান্তিক অপরাধ করেছেন তিনি।
এই মামলায় চার বছর ধরে চলে বিচারপ্রক্রিয়া। তিনজন বিচারক শুনানি করেন। মোট ৫০টিরও বেশি শুনানি হয়, এবং প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে সাতজন সাক্ষী পেশ করা হয়। অভিযুক্ত মা প্রথম থেকেই জেলবন্দি অবস্থায় ছিলেন। অবশেষে সাজা হল তাঁর।