
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 23 December 2024 17:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফোন থেকে প্রেমিকার নম্বর চুরি করে তাঁর সঙ্গে কথা শুরু করেছিলেন বন্ধু। তা একেবারেই মেনে নিতে পারেননি প্রেমিক। রাগে, ক্ষোভে নিজের বন্ধুকেই খুন করলেন বিশাল গোলদার।
ঘটনা হল, চলতি মাসের ১৬ তারিখ উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরির পাদুয়া থানা এলাকার এক জঙ্গলে বছর কুড়ির এক তরুণের দেহ উদ্ধার হয়।
পাদুয়া থানা এলাকার বাঙালি কলোনিতে গৌতম মণ্ডল নামে ওই যুবক পরিবারের সঙ্গেই থাকতেন। তাঁর বাবা মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল পেশায় এক জন শ্রমিক। ২২ দিন ছেলের কোনও খোঁজ না পেয়ে তিনি পুলিশে অভিযোগ জানান। তদন্তে নেমে বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরের এক জঙ্গল থেকে এক তরুণের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই দেহ যে গৌতমেরই তা নিশ্চিত করেন বোন আশা।
দেহ উদ্ধার হতেই ছেলের বন্ধু বিশালের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন গৌতমের বাবা। সেই অভিযোগ পেয়ে বিশালকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা।
পুলিশি জেরায় বিশাল স্বীকার করে নেন যে তিনিই বন্ধুকে খুন করেছেন। কী কারণে খুন করা হছে জিজ্ঞাসা করতেই চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারী অফিসারদের। জানান, উত্তরাখণ্ডের একটি মেয়ের সঙ্গে ফেসবুকে আলাপ হয়েছিল তাঁর। কথা বলতে বলতে জল গড়ায় প্রেমে। ঘনিষ্ঠতা বাড়ে।
তদন্তকারীরা জানান, এমন সময় বিশাল জানতে পারেন বন্ধু গৌতম তাঁর মোবাইল প্রেমিকার নম্বর চুরি করে কথা বলছেন। আর তাতেই খাপ্পা হয়ে ওঠেন তিনি।
নিশ্চিত হতে বন্ধুর অলক্ষ্যে মোবাইল খতিয়ে দেখে বুঝতে পারেন, সত্যিই গৌতমের ফোনে তাঁর প্রেমিকার নম্বর রয়েছে। এরপরই শুরু হয় দু'জনের বিস্তর ঝামেলা।
২৫ নভেম্বর দুই বন্ধু বাড়ি থেকে বেরিয়ে মদ খান। গৌতমের দশা হয় প্রায় বেহুঁশ। সেই সুযোগে মদের গ্লাসে কীটনাশক মিশিয়ে দেন বিশাল। যার জেরে মৃত্যু হয় গৌতমের। এরপর জঙ্গলের মধ্যে বন্ধুর দেহ ফেলে দেন তিনি। গোটা ঘটনার কথা স্বীকার করতেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে।