মণীশ ধামেজার কাছে রয়েছে ১,৬৩৮টি সক্রিয় ক্রেডিট কার্ড, আর সবকটিই তিনি ব্যবহার করেন। বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কার্ড ম্যানেজ করে গিনেস বুকে জায়গা করে নিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের যুবক।

মণীশ ধামেজা
শেষ আপডেট: 14 October 2025 16:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রেডিট কার্ড মানেই কেনাকাটা বা বিল দেওয়ার মাধ্যম, এই ধারণাকে সম্পূর্ণ উল্টে দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মণীষ ধামেজা। ক্রেডিট কার্ডকে শুধু ব্যয়ের হাতিয়ার নয়, বরং উপার্জনের উৎসে পরিণত করেছেন তিনি। আর সেই কারণেই ২০২১ সালের ৩০ এপ্রিল তাঁর নাম উঠেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।
এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর কাছে রয়েছে মোট ১,৬৩৮টি সক্রিয় ক্রেডিট কার্ড। তবে এগুলি কেবল সংগ্রহের জন্য নয়, প্রতিটি কার্ডই তিনি ব্যবহার করেন পুরস্কার পয়েন্ট, ক্যাশব্যাক, ট্রাভেল বেনিফিট এবং হোটেল প্রিভিলেজের সর্বাধিক সুবিধা পাওয়ার জন্য। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, এতগুলি কার্ড থাকলেও তাঁর নামে একটিও ঋণ বা বকেয়া নেই।
মণীষ বলেন, 'আমার জীবন ক্রেডিট কার্ড ছাড়া অসম্পূর্ণ। আমি ক্রেডিট কার্ড ভালবাসি। এই কার্ডগুলির মাধ্যমে আমি উপভোগ করি ফ্রি ট্র্যাভেল, রেলওয়ে ও এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ, খাবার, স্পা, হোটেল ভাউচার, বিনামূল্যে ঘরোয়া ফ্লাইট টিকিট, শপিং ও মুভি টিকিট, এমনকি গলফ সেশন ও ফুয়েল সুবিধা, সবকিছুই রিওয়ার্ড পয়েন্ট, এয়ার মাইলস ও ক্যাশব্যাকের মাধ্যমে।'
তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হল ২০১৬ সালের নোটবন্দি। কেন্দ্র যখন ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে দেয়, তখন সারা দেশে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। বহু মানুষের মৃত্যুর পর্যন্ত খবর পাওয়া যায়। কিন্তু মণীষের সেই সময় কোনও সমস্যা হয়নি। নগদের অভাব বোধই করেননি তিনি। কারণ তাঁর জীবনে ছিল ক্রেডিট কার্ড। ব্যাঙ্কে ছুটোছুটি না করে তিনি নির্ভয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন চালিয়ে গিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
মণীষের শিক্ষাগত যোগ্যতাও বেশ চিত্তাকর্ষক। তিনি সিএসজেএম বিশ্ববিদ্যালয়, কানপুর থেকে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি এবং ম্যাথেমেটিকসে বি.সি.এ করেছেন; লখনউয়ের ইন্টিগ্রাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমসিএ এবং ইগনু থেকে সমাজকর্মে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেছেন।
তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে, পরিকল্পনা ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে প্রযুক্তি ও অর্থ ব্যবস্থাপনাকে ব্যবহার করা গেলে, দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ জিনিসও হয়ে উঠতে পারে অসাধারণ।