
শেষ আপডেট: 15 December 2023 20:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৯ বছর বাদে অবশেষে কুকর্মের সাজা হল। এমন সাজা হল যা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
উত্তরপ্রদেশে সোনভদ্র জেলার দুদ্ধি বিধানসভার জনজাতি বিধায়ক ছিল রামদুলারে গোঁদ। তার স্ত্রী ছিলেন স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান। রামদুলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, সে ২০১৪ সালের ৪ নভেম্বর এলাকার এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে। ওই নাবালিকার পরিবার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পর গোঁদ তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে লাগাতার তাদের ধমকি দিতে থাকে। অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দেয়। কিন্তু শত চাপের মুখে পড়েও মামলা প্রত্যাহার করেনি সেই পরিবার।
উত্তরপ্রদেশে গত বিধানসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিল রামদুলারে। সে ভোটে জিতে যাওয়ার পর ওই মামলার শুনানি এমপি-এমএলএ কোর্টে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ শুনানির পর ওই আদালতই এদিন রামদুলারেকে ২৫ বছরের কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে। সেই সঙ্গে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।
মাইওরপুর এলাকায় পঞ্চায়েত প্রধান ছিলেন রামদুলারের স্ত্রী। রামদুলারে সেই প্রভাব খাটিয়েই এলাকায় দাদাগিরি করত বলে অভিযোগ। নাবালিকার ভাইয়ের অভিযোগ, মাইওরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর থেকে রামদুলারের লাগাতার শাসানি দিচ্ছিল। সেই কথাও তাঁরা আদালতকে জানিয়েছিলেন।
সরকারি আইনজীবী সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠি এদিন জানিয়েছেন, “ওই বিধায়কের বিরুদ্ধে পসকো আইনে মামলা করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, এই অভিযোগও ছিল যে সে তথ্য প্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা করছিল। ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা প্রয়োগ করে সেই কারণেই তাকে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হয়েছে”।
এমপি-এমএলএ কোর্টের বিচারক ছিলেন আসান উল্লাহ খান। তিনি এদিন রায়ে নির্দেশ দিয়েছেন, ওই বিধায়কের থেকে জরিমানার টাকা আদায় করে নাবালিকাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ তা দিতে হবে।
রামদুলারেকে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা থেকে বরখাস্ত করা এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। নিয়ম হল, কোনও বিধায়কের অপরাধমূলক ঘটনায় দু’বছরের বেশি কারাদণ্ড হলেই তাঁর আইনসভার সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে আগামী ৫ বছর তিনি ভোটে দাঁড়াতে পারবেন না। রামদুলারের কারাদণ্ড হয়েছে ২৫ বছরের জন্য। পকসো আইনে দেশের আইনসভার কোনও সদস্যের এই প্রথম এত কঠোরতম সাজা হল।