.jpeg)
ছত্তীসগড় হাইকোর্ট।
শেষ আপডেট: 12 February 2025 11:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ত্রী যদি প্রাপ্তবয়স্ক হন, তাহলে তাঁর সঙ্গে স্বামী ‘অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক’ গড়তে চাইলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না, এমনই রায় দিয়েছে ছত্তীসগড় হাইকোর্ট।
অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে জোর করে ‘অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক’ স্থাপন করেছিলেন, যার ফলে গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি হয় তরুণী স্ত্রীর। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যুও হয়। চিকিৎসকদের মতে, ওই নারী পারিটোনাইটিস (পেটের ভিতরের প্রদাহ) ও মলদ্বারে ছিদ্রজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্কের জেরেই এমন হয়েছিল তাঁর। এর পরেই স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয় মৃতার পরিবারের তরফে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক’ ও ‘হত্যার চেষ্টার’ অভিযোগ আনা হয়েছিল। ট্রায়াল কোর্ট তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল, কিন্তু হাইকোর্টে স্বামীর ‘অপরাধ’ গ্রাহ্য হল না। মুক্তি পেলেন তিনি
এমনিতেই ভারতের বর্তমান আইনে ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ (marital rape) অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। এবার হাইকোর্টের রায় অনুসারে, ‘অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক’ও সেই অপরাধের তালিকা থেকে বাদ পড়ল।
এই মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণ, যদি স্ত্রীর বয়স ১৫ বছরের বেশি হয়, তাহলে সে সম্পর্কে কোনও ধরনের যৌনতাকে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। ফলে স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া ‘অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক’ স্থাপন করলেও তা আইনি দৃষ্টিতে অপরাধ বলে বিবেচিত হবে না।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্ক সংক্রান্ত অপরাধ ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ৩৭৫ ধারায় পড়ে না, কারণ সংশোধনের মাধ্যমে এই ধারাটি সংশোধন করা হয়েছে। একইসঙ্গে, ৩৭৫ ও ৩৭৭ ধারার মধ্যে সংঘর্ষ রয়েছে। তাই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এসব ধারা অনুযায়ী মামলা চলতে পারে না।
প্রসঙ্গত, ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’কে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে একাধিক মামলার শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে। তবে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের অবসরের কারণে ওইসব শুনানি স্থগিত রয়েছে। নতুন বেঞ্চ গঠিত হলে ফের এই বিষয়ে শুনানি হবে।
তবে ভারত সরকারের অবস্থান হল, বৈবাহিক সম্পর্কে সুরক্ষা সবচেয়ে জরুরি। তাই বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কোনও প্রয়োজন নেই। সরকারের মতে, এটি আদালতের বিচারধারার আওতায় পড়ে না।
শুনানির সময় সরকার আরও জানিয়েছে, সংসদ ইতিমধ্যেই দাম্পত্য জীবনে নারীর সম্মতির সুরক্ষার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে। তাই বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে আলাদা আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই।