
চুক্তির জন্য আর্থিক ফায়দার কথাও আলোচনা হয়েছিল ওই বৈঠকে। গ্রাফিক্স-শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 22 November 2024 13:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন আদালতে ঘুষ-কাণ্ডে অভিযুক্ত আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি ২০২১ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জগন রেড্ডির সঙ্গে দেখা করেছিলেন। মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অভিযোগ, ২০২১ সালে অগস্ট মাসে আদানি স্বয়ং অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহন রেড্ডির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রাষ্ট্রায়ত্ত সৌরশক্তি কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে চুক্তিতে অনিচ্ছুক অন্ধ্র সরকারকে রাজি করাতে আদানি দেখা করেন জগনমোহন রেড্ডির সঙ্গে। মার্কিন এসইসি আদালতে জানিয়েছে, চুক্তির জন্য আর্থিক ফায়দার কথাও আলোচনা হয়েছিল ওই বৈঠকে।
২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা জগনমোহনের দল ওয়াইএসআরসিপি অবশ্য এই চুক্তির কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, তাদের সরকার আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করেনি। ২০২১ সালে সৌরশক্তি কর্পোরেশনের সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশ ডিসকম-এর বিদ্যুৎ কেনাবেচা সম্পর্কিত চুক্তি হয়েছিল। তার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে জগন রেড্ডির কোনও সম্পর্ক ছিল না। মার্কিন শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা আদালতে আরও বলেছে, ওই বৈঠকে অথবা বৈঠকের ফলশ্রুতি হিসাবে গৌতম আদানি অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের আধিকারিকদের ঘুষ দিয়েছিলেন অথবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
অভিযোগে সেই ব্যক্তিকে 'ফরেন অফিসিয়াল#1' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যিনি গৌতম আদানির প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ঘুষের অভিযোগের কেন্দ্রীয় চরিত্র। ভারতীয় ধনকুবের শিল্পপতি আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানির বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ ওঠার পর এই রহস্যময় লোকটি নিয়ে নানান কানাঘুষো শুরু হয়। যাকে আমেরিকার অভিযোগের ভাষায় ‘Foreign Official #1’ বলে উল্লেখ রয়েছে। জানা গিয়েছে, আদানির সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশের এই বিদেশি আধিকারিকের (আমেরিকার ভাষায়) তিনটি গোপন বৈঠক হয়েছিল। ২০২১ সালের ৭ অগস্ট, ১২ সেপ্টেম্বর এবং ২০ নভেম্বর দুজনের মধ্যে কথাবার্তা হয়।
এই ভারতীয় সরকারি আধিকারিক অত্যন্ত উচ্চপদে অন্ধ্রপ্রদেশে কর্মরত। তিনিই সৌরশক্তি উৎপাদনের চুক্তি সম্পাদনের মধ্যস্থ ছিলেন এবং যার কারণেই এই ঘুষ দেওয়া-নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হয়েছিল। এই বৈঠকগুলিরই ফল হিসাবে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলি রাষ্ট্রায়ত্ত সৌরশক্তি কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার (SECI) সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত একটি চুক্তি হয়েছিল।
মার্কিন আইনজীবীদের অভিযোগ, এই চুক্তি সম্পাদনের জন্য নির্দিষ্টভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ১৭৫০ কোটি টাকা ঘুষ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগে অন্ধ্রপ্রদেশ ছাড়াও আরও চারটি রাজ্যের নাম এসেছে। সেগুলি হল- তৎকালীন কংগ্রেস শাসিত ছত্তীসগড়, বিজেডি শাসিত ওড়িশা, ডিএমকে শাসিত তামিলনাড়ু এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীর। অভিযোগে দাবি, আদানির সহযোগীরা এই কাজে এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করেছিল। যাতে ঘুষ সংক্রান্ত আলোচনা, দরদস্তুর এবং টাকা লেনদেনের ব্যক্তি, তার এলাকার বিস্তারিত প্রমাণ থাকে।
আর এনিয়েই বিরোধীদের যাবতীয় অভিযোগ নস্যাৎ করে সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বিজেপি মুখপাত্র অমিত মালব্য। তিনি বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার পালটা যুক্তি তুলে ধরেছেন। মালব্য বৃহস্পতিবার বলেন, বিরোধীরা যেন মনে রাখে অভিযোগ নিয়ে খড়্গহস্ত হওয়ার আগে ঘুষ নেওয়ার জবাব দিতে হবে। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কংগ্রেস এবং বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির নামই উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ ওঠার সময়টিও হল সংসদের শীত অধিবেশনের ঠিক মুখে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের গদিতে বসার আগে আগে।