
গ্রামবাসীদের ছবি
শেষ আপডেট: 4 October 2024 23:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: …হাঁড়িগুলো রাখে আলনায়। হাঁড়ি চাপে না সংসারে। এমনই গ্রামের হদিশ গুজরাতে। গ্রামে মানুষের বাস মেরেকেটে পাঁচশো। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই বৃদ্ধ। লেখাপড়া হোক বা কাজের কারণে এক এক করে পরিবারের বৃদ্ধ বাবা-মাকে ছেড়ে বাইরে চলে গিয়েছেন ছেলেমেয়েরা। বয়স্ক বাবা-মায়ের ঠিকানা হয়েছে গ্রামেই। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে যেখানে শহরকেই বেছে নিচ্ছেন বহু মানুষ, সেখানে গুজরাতের ওই গ্রামের মানুষদের জীবনযাত্রা দেখে তাজ্জব দেশবাসী।
শেষ বয়সে নিঃসঙ্গতা সত্যিই কষ্টের। পরিবারের কারণেই হোক বা অন্য কোনও কারণে বয়স্কদের ঠিকানা এখন বৃদ্ধাশ্রম। কিন্তু গুজরাতের চন্দনকি গ্রামে গেলে সেখানকার মানুষদের জীবনযাত্রা দেখলে রীতিমতো হিংসা করবে আপনারও। যেখানে কোনও বাড়িতে রান্না হয় না, পৌঁছয় নি বিদ্যুতের আলোও। এসবকিছুকে উপেক্ষা করেই নিজেদের বার্ধক্য তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছেন তাঁরা।
এমন কী আছে গুজরাতের গ্রামে?
গ্রামটিতে আগে ১১০০ মানুষ বসবাস করলেও সময়ের সঙ্গে সেই সংখ্যা মেরেকেটে এখন পাঁচশোতে এসে ঠেকেছে। কিন্তু গ্রামে গেলেই নজরে আসবে ওই ৫০০ জন মিলেই একটি পরিবার। যে পরিবারের মাথা গ্রামেরই সরপঞ্চ পুনম ভাই প্যাটেল।
২০ বছর নিউ ইয়র্কে কাটানোর পর বৃদ্ধ বয়সে তিনি ফিরে আসেন নিজের গ্রামে। এরপরই গ্রামবাসীদের পাশে নিয়ে একটি কমিউনিটি কিচেন খুলে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে দিনের বেশিরভাগ সময় সেখানেই কাটান তাঁরা।
আচমকা কেন এমন সিদ্ধান্ত?
সরপঞ্চ প্যাটেল বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনও বিভেদ নেই। আমদের ৫০০ জন মিলিয়েই এই গোটা পরিবার। বিপদে যেমন আমরা সবাই পাশে দাঁড়াই, তেমনই সবাই আনন্দ ভাগও করে নি।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, গ্রামবাসীরা মাথাপিছু মাসে দু’হাজার টাকা খরচ করে দু’বেলা খাবার পান। রান্নার জন্য ভাড়া করা ঠাকুররা রয়েছেন। যারা মাসিক ১১ হাজার টাকা বিনিময়ে ৫০০ বয়স্কদের জন্য রান্না করেন।
দু’বেলা কি খাবার মেলে?
ইতিহ্যবাহী এবং লোভনীয় গুজরাতি খাবারের বিভিন্ন পদ সেখানে পরিবেশন করা হয়। সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে থাকে বিশেষ ব্যবস্থা। যেখানে দু’বেলা মানুষ খেতে আসেন সেই কমিউনিটি কিচেনেও রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। সৌর বিদ্যুতের সাহায্যে লাইট ও এসির সুবন্দোবস্ত আছে সেখানে।
গ্রামের মানুষের জীবিকা কী?
সরপঞ্চ জানান, ওই গ্রামের মানুষ নিজেদের ইচ্ছেমতো থাকেন। যেটুকু পারেন কাজ করেন। এই বয়সে তাঁদের কাজের থেকে মানসিক শান্তিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গুজরাতের এই গ্রামের নাম আগে মানুষ না জানলেও সময় যত গড়িয়েছে চন্দনকি গ্রাম নিজ বৈচিত্রের কারণে রীতিমতো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মানুষ তাঁদের জীবনযাত্রা পরখ করতে সেখানে পৌঁছেও যাচ্ছেন।
পুরো বিষয়টা এতটা সহজ ছিল না। সরপঞ্চ জানান, ‘কমিউনিটি কিচেন খোলার পরই মডেল হয়ে উঠেছে গুজরাটের ওই গ্রাম। তিনি আরও জানান, জীবনের শেষ সময়টুকু এমনভাবে কাটাতে পারা সত্যিই ভাগ্যের।’