
জিপিএস লাগানো ট্রাকে বিশেষ ধরনের কন্টেনার বসিয়ে কিছু বর্জ্য তোলা হয়।
শেষ আপডেট: 30 December 2024 11:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৪০ বছর কেটে গেল, কেউ কথা রাখেনি। অবশেষে সরতে চলেছে ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনায় পরিত্যক্ত ইউনিয়ন কার্বাইড কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য। আদালতের ধমক খাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে মধ্যপ্রদেশের সরকার। অনেকে ভুলে গিয়েছেন, অনেকে শুনেছেন, কিন্তু যাঁরা আজ মধ্যবয়সি, তাঁরা জানেন ১৯৮৪ সালের ২ ও ৩ ডিসেম্বরের মধ্যবর্তী রাতের সেই দুঃস্বপ্নের কথা। ভোপালের কীটনাশক তৈরির কারখানা ইউনিয়ন কার্বাইড থেকে অতি বিষাক্ত গ্যাস মিথাইল আইসোসায়ানেট লিক করে মৃত্যু হয়েছিল ৫৪৭৯ জনের। চিরকালের মতো পঙ্গু ও অন্যান্য রোগভোগে পরবর্তীতে মৃত্যু হয় আরও কয়েক হাজার মানুষের। তারপর থেকে পরিত্যক্ত কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য সরানো নিয়ে প্রচুর কাঠখড় পুড়েছে। এবার আদালতের ধমক খেয়ে সেই কাজ শুরু হল।
ভোপালে ইউনিয়ন কার্বাইডের পরিত্যক্ত কারখানা ঘিরে পড়ে রয়েছে প্রায় ৩৭৭ টন মানবশরীরের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর বর্জ্য। রবিবার থেকে সেই বর্জ্য রাজধানী শহর থেকে প্রায় ২৫০ কিমি দূরে ইন্দোরের কাছে নিয়ে গিয়ে ফেলার প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। অত্যন্ত বিপজ্জনক এই কাজের জন্য পুলিশ-প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। পিথমপুর নামের একটি জায়গায় সেই বর্জ্যকে নষ্ট করে ফেলার কাজও অত্যন্ত সাবধানে করতে হবে।
প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, এই বর্জ্যের কিছু অংশকে পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পোড়ানোর সময় নির্গত ধোঁয়া নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট প্রশাসনকে বর্জ্য নিয়ে ব্যাপক ভর্ৎসনা করেছিল। রাজ্যে রাজধানী থেকে ওই বর্জ্য সরিয়ে ফেলার জন্য এর আগেও বহুবার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।
সেই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার জিপিএস লাগানো ট্রাকে বিশেষ ধরনের কন্টেনার বসিয়ে কিছু বর্জ্য তোলা হয়। পিপিই পোশাক পরে ভোপাল পুরসভার প্রচুর শ্রমিক, পরিবেশ কর্মী, ডাক্তার এবং বর্জ্য নষ্ট করার বিশেষজ্ঞরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কারণ ওই গ্যাস দুর্ঘটনায় শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন অন্তত ৫ লক্ষের বেশি। যাঁদের বহুজনের অকালমৃত্যু হয়েছে।
প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, প্রথমে কিছু বর্জ্য পোড়ানো হবে। তারপর দেখা হবে ওই ছাইয়ে কোনও বিষাক্ত কিছু থেকে গিয়েছে কিনা। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট গত ৩ ডিসেম্বর প্রশাসনকে চার সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছিল। তার মধ্যে কাজ না হলে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। বর্জ্য নিয়ে যাওয়ার জন্য ২৫০ কিমি পথকে গ্রিন করিডর করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।