
বাতিল নেট পরীক্ষা। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 20 June 2024 13:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে ১১ লক্ষ পরীক্ষার্থী ইউজিসি-নেট পরীক্ষায় বসেছিলেন। পরীক্ষার একদিন পরেই তা বাতিল করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। জানা গেছে, পুনরায় ওই পরীক্ষা হবে, তারিখ ঘোষণা করা হবে তাড়াতাড়ি। এই পরিস্থিতিতে অনেকেরই প্রশ্ন, কী এই ইউজিসি-নেট পরীক্ষা? কীভাবে হয় এই পরীক্ষা, কেনই বা বাতিল হল তা।
কেন্দ্রীয় সরকারের ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট কমিশন (ইউজিসি) ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি টেস্ট (এনইটি) নেওয়া হয়, দেশের বিভিন্ন কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর এবং জুনিয়র রিসার্চ ফেলো (জেআরফ) পদে প্রার্থী নিয়োগের জন্য।
পেপার ১ ও পেপার ২-- এই দু'টি ধাপে পরীক্ষা দেন প্রার্থীরা। দু'টি পেপারের নম্বরের উপর নির্ভর করে, জেআরএফ ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে যোগ্য হওয়ার মাপকাঠি। কেউ যেমন জেআরএফ পান, কেউ অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হন, কেউ আবার দু'টি সুযোগই পান। যাঁরা কেবলমাত্র অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে যোগ্য নির্বাচিত হন, তাঁরা সংশ্লিষ্ট ইউনিভার্সিটি বা কলেজের নিয়োগের নিয়ম মেনে সুযোগ পান চাকরির।
ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ সংস্থা দ্বারা এই পরীক্ষা পদ্ধতি পরিচালনা করা হয়। ইন্ডিয়ান সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট ১৮৬০-এর আওতায় এই সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালে। এটি একটি স্বশাসিত সংস্থা, যাদের দায়িত্বে দেশের বিভিন্ন বড় বড় প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালিত হয়ে থাকে। ইউজিসি-নেট ছাড়াও, নিট, জয়েন্ট, গেট, ক্যাট, জিম্যাট-- এই ধরনের সমস্ত বড় পরীক্ষাই নিয়ে থাকে এনটিএ।
এই সংস্থার শীর্ষে রয়েছেন ইউপিএসসি-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রদীপকুমার জোশী। কেন্দ্রের মানবসম্পদ মন্ত্রকের তরফে সরাসরি এই পদে নিয়োগ করা হয়।
বছরে দু'বার নেট পরীক্ষা নেয় এনটিএ। জুন মাসে এবং ডিসেম্বর মাসে এই পরীক্ষা হয়ে থাকে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে কম্পিউটারে অর্থাৎ সিবিটি (কম্পিউটার বেসড টেস্ট) পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তবে এই বছরের জুন মাসে, অর্থাৎ সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া নেট পরীক্ষায় নিয়ম বদলেছিল এনটিএ। একদিনে, কাগজ-কলমে পরীক্ষা হবে বলে জানিয়েছিল। ১৮ জুন এই পরীক্ষা হয় এবং রেকর্ড সংখ্যায় পরীক্ষার্থী, ১১ লক্ষ জন পরীক্ষা দেন।
শিক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট কমিশন ১৯ জুন নেট পরীক্ষায় দুর্নীতি সম্পর্কে কিছু তথ্য জানতে পারে সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার থেকে। সেই তথ্যে স্পষ্ট হয়ে যায়, সদ্য অনুষ্ঠিত নেট পরীক্ষায় কিছু দুর্নীতি হয়েছে।
একথা জানার পরে শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, দেশজুড়ে আয়োজিত এই পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাই ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে ২০২৪ সালের জুন মাসের ইউজিসি-নেট পরীক্ষা বাতিল করা উচিত। নতুন করে ফের একটি পরীক্ষা নেওয়া হবে। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) কাছে পাঠানো হচ্ছে বিষয়টি।