
শেষ আপডেট: 13 December 2023 16:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভার ভিজিটরস গ্যালারিতে যে কেউ ঢুকতে পারেন না। সংসদের মধ্যে অধিবেশন কীভাবে চলে তা দেখার জন্য অনেকেরই আগ্রহ থাকে। কেউ লোকসভা বা রাজ্যসভার অধিবেশন দেখতে চাইলে তাঁকে সেই সভার কোনও সদস্য তথা সাংসদের থেকে সুপারিশ পত্র সংগ্রহ করতে হয়। সেই সুপারিশের চিঠি সংসদ ভবনের গেটে দেখালে তাঁকে সিকিউরিটি চেক করে ভিতরে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়।
এ ছাড়া লোকসভার স্পিকার বা রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের সুপারিশের ভিত্তিতেও দুই সভার ভিজিটরস গ্যালারিতে দর্শনার্থীদের বসতে দেওয়া হয়। অনেক সময় দেখা যায়, স্কুল, প্রশাসনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলেজের ছাত্ররাও দল বেঁধে লোকসভা বা রাজ্যসভার অধিবেশন দেখতে আসে।
বুধবার লোকসভায় যে ধুন্ধুমার ঘটনা ঘটে গিয়েছে, তার পর এখন বড় কৌতূহলের বিষয় হল, কোন সাংসদের থেকে সুপারিশ পত্র নিয়ে লোকসভার ভিজিটরস গ্যালারিতে ঢুকেছিলেন দুই যুবক।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সচিবালয় সূত্রে বলা হচ্ছে, কোনও সাংসদের সুপারিশ ক্রমে ওই যুবককে লোকসভায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তা বের করা খুবই সহজ। এদিন সংসদ ভবনের রিসেপশনে যে সব চিঠি জমা পড়েছে তা খতিয়ে দেখলেই তা বোঝা যাবে। ভিজিটরস পাসেও তা লেখা থাকার কথা।
সূত্রের খবর, সাগর শর্মার কাছে থাকা ভিজিটরস পাসটি ইস্যু করেছিলেন মাইসুরুর বিজেপি সাংসদ প্রতাপ সিমহা।
এখানে জানিয়ে রাখা ভাল, বুধবার লোকসভার ভিজিটরস গ্যালারি থেকে দুই যুবক স্লোগান দিতে দিতে সভার মধ্যে ঝাঁপ দেয়। তার পর ক্যানিস্টার খুলে হলুদ ধোঁয়া ছড়িয়ে দেয় সভার মধ্যে।
কোনও সাংসদের থেকে সুপারিশ পত্র নিয়ে লোকসভা বা রাজ্যসভার ভিজিটরস গ্যালারিতে বসার অনুমতি দেওয়া হয় ঠিকই। তবে কাউকেই সংসদ ভবনের মধ্যে ইচ্ছামতো বিচরণ করতে দেওয়া হয় না। ২০০১ সালে সংসদে হামলার পর থেকেই এ ব্যাপারে কড়াকড়ি করা হয়েছে। ভিজিটরদের সারিবদ্ধ ভাবে ভিজিটরস গ্যালারিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা রক্ষী থাকেন। তা ছাড়া ভিজিটরস গ্যালারিতেও সাদা পোশাকে নিরাপত্তা রক্ষী বসে থাকেন। বিশেষ করে পুরনো সংসদ ভবনে ভিজিটরস গ্যালারির প্রথম সারিতে কোনও দর্শনার্থীকে বসতে দেওয়া হত না। সেখানে প্রতিটি বেঞ্চে সাদা পোশাকে একজন করে নিরাপত্তা কর্মীই বসে থাকতেন। তার পরেও এদিন যে ঘটনা ঘটে গিয়েছে, তা নাটকীয় এবং বিষ্ময়কর বইকি। ধৃত দুই যুবকের কোনও নাশকতার উদ্দেশ্য ছিল না। তারা রাজনৈতিক বার্তা দিতেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে এ ঘটনায় সংসদের নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠে গেল।