
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 17 November 2024 23:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মণিপুরে ফিরছে দেড় বছর আগের স্মৃতি! ফের লাগাতার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তপ্ত উত্তর-পূর্ব ভারতের এই রাজ্য। সম্প্রতি ছয় দেহ উদ্ধারের পরই রাজধানী ইম্ফল জুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের ঝড় শুরু হয়ে যায়। আর রবিবার তো আরও ভয়ানক কাণ্ড ঘটেছে। নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে দুই মুণ্ডহীন দেহ! রাজ্যের জিরিবাম জেলার জিরি নদী থেকে দু’টি দেহ উদ্ধার হয়েছে।
শুক্রবার গভীর রাতে জিরিবাম জেলার বরাক নদী থেকে উদ্ধার হয়েছিল তিনটি দেহ। শনিবার সকালে পাওয়া যায় আরও তিনজনের মৃতদেহ। আর রবিবার জিরিবামেরই জিরি নদী থেকে দু’টি দেহ উদ্ধারের খবর মিলেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা এবং দু'বছরের এক শিশুর মুণ্ডহীন দেহ নদীতে ভেসে এসেছে। তবে অনেকেই দাবি করেছেন, নদীতে আরও মৃতদেহ ভাসতে দেখেছেন তাঁরা। সেক্ষেত্রে মৃতের সংখ্যা যে বাড়বে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
মৈতেই সম্প্রদায়ের দাবি, যাঁদের দেহ উদ্ধার হয়েছে তাঁদের গত সোমবার জিরিবামে অসম সীমানা লাগোয়া অঞ্চল থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। কুকি জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই তাঁদের অভিযোগ। এক্ষেত্রে ওরাই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে নিশ্চিত মৈতেইরা। তাই এরপর পরিস্থিতি যে আরও উত্তপ্ত হতে পারে তার আশঙ্কা রয়ে গেছে।
এদিকে ইম্ফলে খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহের বাড়িও এখন নিরাপদ নয়। শনিবার রাতে বিক্ষোভকারীরা মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে হামলার চেষ্টা করেছিল। সেখানে বিক্ষোভকারীরা ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তবে হতাহতের খবর নেই। হামলা হয়েছে রাজ্যের তিন মন্ত্রীর বাংলোতেও। মন্ত্রীদের সপরিবার সার্কিট হাউসে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আক্রান্ত বেশ কয়েকজন বিধায়কও।
গত বছর মে মাস থেকে মণিপুর উত্তপ্ত। জাতি সংঘর্ষে হিংসার তাণ্ডব চলেছিল রাজধানী ইম্ফলে। আক্রমণ হয় মুখ্যমন্ত্রী-সহ একাধিক মন্ত্রীর বাংলোয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ব্যক্তিগত বাংলোও। বহু মানুষের মৃত্যু এবং মহিলাদের ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগও উঠেছিল। সেই একই ছবি আবার হয়তো ফেরার মুখে।