
মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও এবং ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর
শেষ আপডেট: 22 January 2025 15:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার ভারতকে প্রথম শ্রেণির অগ্রাধিকারের গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখার স্পষ্ট আভাস দিল দ্বিতীয় দিনেই। ওয়াশিংটনের কাছে নয়াদিল্লিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে নতুন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও এবং সেদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টৎজ তাঁদের প্রথম দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক বৈঠকটি সারলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে। আমেরিকার ৪৭-তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে জয়শঙ্কর বর্তমানে সেদেশেই আছেন। বিশ্বের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম গণতন্ত্রের দুই শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রীর বৈঠকটি হয় মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের সদর দফতর ফগি বটম অফিসে। যা নজর কেড়ে নিয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির।
যদিও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথগ্রহণে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পটবদলের আঁচ করে ভিডিও কলে আলোচনা করেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন। হোয়াইট হাউসে নতুন অধীশ্বর বসায় চিন-রুশ মৈত্রী আরও সুগভীর করার লক্ষ্যে শপথগ্রহণের প্রায় অব্যবহিত পরেই কথা সেরে ফেলেন শি ও পুতিন। মঙ্গলবার চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম এই খবর জানিয়েছে।
ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে নতুন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের গুরুত্ব যথেষ্ট। কারণ এতদিন পর্যন্ত নতুন প্রেসিডেন্ট শপথ নেওয়ার পর মার্কিন প্রশাসন সাধারণত কানাডা, মেক্সিকো কিংবা ন্যাটোভুক্ত দেশের সঙ্গে প্রথম আলোচনায় বসে। সেটাই এতদিনের প্রথা হয়ে আসছিল। প্রায় ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে দুদেশের সম্পর্ক মজবুত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে জয়শঙ্করের সঙ্গে আমেরিকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় ক্বাত্রা। বৈঠকের শেষেই রুবিও এবং জয়শঙ্কর বেরিয়ে এসে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে করমর্দন করে ছবি তোলেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের বিশেষ দূত হিসেবে জয়শঙ্কর রিলায়েন্স কর্তাগিন্নি মুকেশ আম্বানি ও নীতা আম্বানির মতো উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে বসতে দেওয়া হয়েছিল একেবারে প্রথম সারিতে। নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো একটি চিঠিও নিয়ে গিয়েছিলেন। একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনও দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের তরফে বিশেষ দূতকেই পাঠানো রীতি। সেই সূত্রেই বিদেশমন্ত্রী সোমবার হাজির ছিলেন ওয়াশিংটন ডিসিতে।
যদিও যে কোনও বিদেশমন্ত্রীই এ ধরনের সফরে গিয়ে রথ দেখা ও কলা বেচা দুধরনেরই কাজ সম্পন্ন করেন। তেমনই জয়শঙ্করও এই সফরের ফাঁকে জাপানের বিদেশমন্ত্রী তাকেশি আইওয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিয়েছেন। কোয়াড বিষয়ক এবং ভারত-জাপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির বিষয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও জয়শঙ্কর দেখা করেন অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওয়ং-এর সঙ্গেও।
শি-পুতিন আলোচনা নিয়ে চিনের সরকারি টিভি চ্যানেল সিসিটিভি জানিয়েছে, দুদেশের রাষ্ট্রনেতার আলোচনাটি হয় বেজিংয়ের গ্রেট হল অফ দ্য পিপল-এ। তবে বৈঠকের বিষয়ে বিশদ খোলসা করে কিছু জানানো হয়নি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত চিন নিজেকে নিরপেক্ষ ভূমিকায় রেখেছে। যদিও মস্কো ও বেজিংয়ের মধ্যে এখনও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠ সমঝোতা বজায় রয়েছে। বিশেষত চিন এখনও পর্যন্ত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমালোচনা না করায় ইউরোপীয় দেশগুলি তথা মার্কিন শক্তি নেতৃত্বাধীন ন্যাটোভুক্ত দেশগুলি বেজিংকে সংঘর্ষের নীরব সমর্থক বলে মনে করে।
এর আগে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে 'সেরা বন্ধু' এবং পুতিনও শি-কে 'বিশ্বাসযোগ্য শরিক' বলে মন্তব্য করেছিলেন। এদিন ভিডিও কলের শুরুতেই পুতিন শিকে ডিয়ার ফ্রেন্ড বলে সম্বোধন করেন। পুতিন বলেন, তিনি চান রুশ-চিনের মধ্যে সর্বাত্মক শরিকি বন্ধুত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে এক নতুন পরিকল্পনায়। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এই কথাবার্তার ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।