
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন
শেষ আপডেট: 11 February 2025 23:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার সংসদে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitaraman on TMC)। লোকসভায় বাজেট বিতর্কে জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে নির্মলা এদিন বলেন, "তৃণমূল এখন শোষণের প্রতিশব্দ ( by-word for exploitation)। দলটি দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে দিয়েছে।" পশ্চিমবঙ্গে একশ দিনের কাজ ও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, "তৃণমূলের ক্যাডাররা সাধারণ মানুষের টাকা লুট করে ফুলে-ফেঁপে উঠছে।"
নির্মলা এদিন লোকসভায় যখন এ কথা বলেন, তখন তৃণমূলের সাংসদরা উঠে দাঁড়িয়ে তীব্র আপত্তি ও প্রতিবাদ জানান। পরে সংসদের বাইরে তৃণমূলের মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সামাজিক খাতে রাজ্যগুলিকে টাকা বরাদ্দ করা কমিয়ে দিয়েছে মোদী সরকার। আর তা ঢাকতে গত দু’বছর ধরে ভাঙা রেকর্ড বাজাচ্ছে।
FM @nsitharaman must have been living under a rock to claim there are “no jobs, no factories, and no vision” in Bengal. Here’s the reality you conveniently ignored:
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) February 11, 2025
✅ 5000+ global business leaders have hailed Bengal as India’s top investment hub
✅ ₹4.4 lakh crore in…
তার আগে সীতারামন এদিন কটাক্ষের সুরে বলেন, যেই দল নিজের নামের মধ্যেই ‘তৃণমূল’ শব্দটি বহন করে, সেই দলই এখন তৃণমূল স্তরের মানুষের বিরোধী হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, "এই দল এখন সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতীক।"
বাজেট বিতর্কে জবাব দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আর্থিক অবরোধের যে অভিযোগ করছেন, তা মোটেও সত্যি নয়। বাস্তব ও সত্যিটা হল, পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তিনি জানান, ২০১৬-১৭ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় কেন্দ্র মোট ২৫,৭৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। কিন্তু তাতে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
একশ দিনের কাজ প্রকল্প নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, "রাজ্যে ২৫ লাখ ভুয়ো জব কার্ডের খোঁজ মিলেছে। এই টাকা আসলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পকেটে গেছে।" কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা চাইলেও এখনও কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি বলে জানান তিনি।
দুর্নীতির আরও উদাহরণ দিতে গিয়ে সীতারামন বলেন, "শুধু মিড-ডে মিল প্রকল্পেই ১০০ কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে।" অর্থনীতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে নির্মলা সীতারামনের আরও দাবি, রাজ্যে শিল্প নেই, কর্মসংস্থান নেই, বিনিয়োগ নেই। তাঁর কথায়, ২০১০ সালে যেখানে পশ্চিমবঙ্গে মূলধন গঠনের হার ছিল ৬.৭%, তা এখন ২.৯%-এ নেমে এসেছে। ফলে, রাজ্যের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার জাতীয় গড়ের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে। একদা ভারতের শিল্পকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গের এখন শিল্প উৎপাদনে মাত্র ৩.৫% যোগদান রয়েছে, যেখানে ১৯৪৭ সালে এই হার ছিল ২৪%।
অর্থমন্ত্রী জানান, "গত ২০ বছরে পশ্চিমবঙ্গের মাথাপিছু আয়ের বৃদ্ধির হার জাতীয় গড়ের চেয়ে কম। ২০২১-২২ সালে রাজ্য এই সূচকে ২৩তম স্থানে ছিল।" তৃণমূলের সমালোচনার মাঝেই কেন্দ্রের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাবও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর দাবি,
• ২০২৪ সালে এআইআইএমএস কল্যাণীর উদ্বোধন হয়েছে।
• পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামোর জন্য ১৩,৯৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
• আসানসোলে চালু হয়েছে ভারতের প্রথম ‘গতি শক্তি কার্গো টার্মিনাল’।
• ২০১৪ থেকে এখনও পর্যন্ত ২৩,০৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৮ কিমি মেট্রো লাইন তৈরি হয়েছে।
• ২,৩০৯ কিমি জাতীয় সড়ক নির্মাণ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।
• ২০২৪ সালের আগস্টে সিসিইএ বাগডোগরা বিমানবন্দরে নতুন সিভিল এনক্লেভ তৈরির অনুমোদন দিয়েছে, যেখানে ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৫৪৯ কোটি টাকা।