
শেষ আপডেট: 8 April 2024 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রহণ লাগল সূর্যে। ৫০ বছর পর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব। চাঁদের ছায়া একটু একটু করে গ্রাস করছে সূর্যের শরীর। আমেরিকা ও টেক্সাসে (রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে ভারতীয় সময় অনুযায়ী) দেখা যাবে গ্রহণ। ওকলাহোমা, আরকানাস, মিসৌরি, কেন্টাকি, ইন্ডিয়ানা, পেনসিলভানিয়া, নিউ ইয়র্ক থেকে দেখা যাবে সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ। ভারত থেকে সরাসরি গ্রহণ দেখার উপায় নেই। তবে এ দেশের মানুষজনও গ্রহণ দেখতে পাবেন। সেটা কখন ও কীভাবে?
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, আজ ৮ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টা থেকে গ্রহণ দেখা যাবে ভারতে। একটি লিঙ্ক শেয়ার করেছে নাসা। এই লিঙ্ক খুললেই সূর্যগ্রহণের প্রতিটি স্তর দেখতে পাবেন ভারতীয়রা। কীভাবে একটু একটু করে অর্ধেক হতে হতে সূর্যের চারপাশে আংটির মতো দ্যুতি তৈরি হবে তাও দেখাবে নাসা।
কলকাতার পজিশনাল অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতীয় সময় অনুযায়ী সোমবার রাত ৯ টা ১২ মিনিট ৩ সেকেন্ডে সূর্যগ্রহণ শুরু হবে। আর সোমবার (ইংরেজি মতে মঙ্গলবার) রাত ২ টো ২২ মিনিট ৩ সেকেন্ডে শেষ হবে সূর্যগ্রহণ (ভারতীয় সময় অনুযায়ী)। পূর্ণগ্রাস গ্রহণ দেখা যাবে পশ্চিম ইউরোপ প্যাসিফিক, আটলান্টিক, আর্কটিক মেক্সিকো, উত্তর আমেরিকা কানাডা, মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাঞ্চল, ইংল্যান্ডের উত্তর পশ্চিম অঞ্চল এবং আয়ারল্যান্ডে।
সূর্যের পূর্ণগ্রাস হল বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। ১৮ মাস পর পর একটি করে পূর্ণগ্রাস হয় সূর্যের। সেটাই যে প্রকৃতির নিয়ম। যখন সূর্যের মুখ পুরোপুরি ঢেকে দেয় চাঁদ। তার ফলে, দৃশ্যমান হয়ে ওঠে সূর্যের বায়ুমণ্ডল বা করোনা। যা এক বিরল দৃশ্য। সূর্যের কখনও আংশিক গ্রাস হয়, কখনও পূর্ণগ্রাস, আবার কখনও বলয়গ্রাস বা 'রিং অফ ফায়ার'। আর যদি তিনটেই পরপর ঘটতে থাকে তাহলে তাকে বলে হাইব্রিড বা শংকর সূর্যগ্রহণ। চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে। পৃথিবীর দিকে ৫ ডিগ্রি কোণে হেলে থেকে। তাই পূর্ণগ্রাস, আংশিক গ্রাস ও বলয়গ্রাস মিলিয়ে বছরে ৫টির বেশি সূর্যগ্রহণ হওয়া সম্ভব নয়। এ বছর এপ্রিলে বিরলতম পূর্ণগ্রাস গ্রহণ হতে চলেছে যা দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। এ বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানী মহলে উৎসাহ-উদ্দীপনা তুঙ্গে।
বিড়লা তারামণ্ডল জানাচ্ছে, আজ ভরদুপুরেই আকাশে ফুটে উঠবে শুক্রগ্রহ ও বৃহস্পতি। আকাশ মেঘলা না থাকলে দেখা যাবে। পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার সময়ে চাঁদ যখন পৃথিবী আর সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখনই সূর্যগ্রহণ হয়। চাঁদের ছায়া যেখানে যেখানে পড়ে, সেখান থেকে গ্রহণ দেখা যায়। এবারের গ্রহণ বিরল মহাজাগতিক ঘটনা বলেই জানাচ্ছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। গ্রহণের আগের দিন চাঁদ পৃথিবীর নিকটতম অবস্থানে চলে আসবে। সে জন্য চাঁদের ব্যাস গ্রহণের দিন আপাত ভাবে পাঁচ শতাংশেরও বেশি বড় বলে মনে হবে।
২০২৪ সালের দ্বিতীয় সূর্যগ্রহণ হবে আগামী ২ অক্টোবর। বছরের দ্বিতীয় সূর্যগ্রহণও পরিলক্ষিত হবে না ভারত থেকে। পলিনেশিয়া (হাওয়াই দ্বীপ), পশ্চিম মেক্সিকো, দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাংশ, আন্টার্টিকা, দক্ষিণ জর্জিয়ার মতো এলাকা থেকে দেখা যাবে সেই গ্রহণ।