
সরকার প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য হয়, সে ব্যবস্থা চায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।
শেষ আপডেট: 28 November 2024 10:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংসদের চলতি শীত অধিবেশনে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যসভা ও লোকসভায় সাধারণ মানুষের ইস্যুগুলিকেই তুলে ধরবে। অর্থাৎ কংগ্রেসের মতো কেবলমাত্র আদানি ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংসদের দুই কক্ষ অচল করার পক্ষপাতী নয় রাজ্যের শাসকদল। প্রসঙ্গত, গত দুদিন ধরে আদানির ঘুষ দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যসভা ও লোকসভা উত্তাল হয়ে ওঠে। এবং দুই সভাই মুলতুবি করে দিতে হয়। কিন্তু, ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শক্তি তৃণমূলের সংসদীয় বৈঠকে ঠিক হয়েছে, দল সাধারণ মানুষের ইস্যুগুলি তুলে ধরে আলোচনা চাইবে। যেমন রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনা, মণিপুর ইত্যাদি। সুতরাং, আদানি ইস্যুতে যে কংগ্রেস জোটের অন্যতম মুখ তৃণমূলকে পাশে পাচ্ছে না, তা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।
তৃণমূলের লোকসভার সদস্য কাকলি ঘোষদস্তিদার এবং রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও'ব্রায়েন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, একটি মাত্র ইস্যুতে (আদানি বিতর্ক) সীমাবদ্ধ থাকবে না কেন্দ্রবিরোধী লড়াই। এই কাজে তারা সংসদের দুই কক্ষের কাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, এবং সরকার প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য হয়, সে ব্যবস্থা চায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।
লোকসভায় দলের ডেপুটি নেতা কাকলি ঘোষদস্তিদার জানান, তৃণমূল সংসদে জনতার দাবিদাওয়া তুলে ধরবে। যেমন রাজ্যগুলিকে কেন্দ্রীয় অর্থসাহায্য, মণিপুর অশান্তি। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই সংসদ সুষ্ঠুভাবে চলুক। একটি মাত্র ইস্যুকে তুলে ধরে সংসদ অচল করে দিতে চাই না আমরা। আমাদের লক্ষ্য সরকার যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থ তার জবাব দিতে বাধ্য হোক সংসদে।
উল্লেখ্য, এক জোটে ভিন্ন মত শুরুই হয়েছিল গত সোমবার। সংসদ বসার আগে প্রথামতো বিরোধী জোটের বৈঠকে গরহাজির ছিলেন ঘাসফুলের এমপিরা। ওই বৈঠকে বিরোধী জোটের নেতারা আদানি ইস্যুতে যৌথ সংসদীয় দল গঠনের চাপ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। গত বুধবারেও বিরোধীদের বৈঠকে হাজির ছিল না তৃণমূল কংগ্রেস।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের দাবি, যেমন ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধের ইস্যুই অগ্রাধিকার পেতে চলেছে শীত অধিবেশনে। এছাড়াও দেশজুড়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বেকারি, সারের ঘাটতি নিয়ে সংসদের দুই কক্ষে সরব হবে দল। কাকলির সুরে দলের রাজ্যসভার বর্ষীয়ান সদস্য ডেরেকও বলেন, আমরা সংসদ চলতে দেওয়ার পক্ষে। একমাত্র তাহলেই আমজনতার দাবিদাওয়া কক্ষে তুলে ধরা যেতে পারে।