বৃহস্পতিবার কেন্দ্র সরকারের কাছে দাবি জানালেন, পাঞ্জাবের অমৃতসরের ঐতিহাসিক জালিয়ানওয়ালাবাগে (Jallianwala Bagh) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) একটি মূর্তি স্থাপন করতে হবে।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 24 July 2025 23:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Writabrata Banerjee) বৃহস্পতিবার কেন্দ্র সরকারের কাছে দাবি জানালেন, পাঞ্জাবের অমৃতসরের ঐতিহাসিক জালিয়ানওয়ালাবাগে (Jallianwala Bagh) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) একটি মূর্তি স্থাপন করতে হবে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে নাইটহুড উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি সেই উপাধি প্রত্যাখ্যান করেন। এই ঐতিহাসিক প্রতিবাদকে স্মরণ করে নোবেলজয়ী কবির মূর্তি স্থাপন করা উচিত বলে মনে করেন তৃণমূল সাংসদ।
In a written response to a question raised by Shri @RitabrataBanerj, @MinOfCultureGoI confirmed that there is no statue of Kobiguru Rabindranath Tagore at the Jallianwala Bagh memorial, and, more disappointingly, that there is no plan to install one.
Gurudev was one of the most… pic.twitter.com/Bs2faAbMpc— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) July 24, 2025
ঋতব্রত জানান, তিনি সংসদে একটি প্রশ্ন করেন যে, জালিয়ানওয়ালাবাগ স্মৃতিসৌধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোনও মূর্তি আছে কি না বা ভবিষ্যতে স্থাপনের কোনও পরিকল্পনা আছে কি না। এর উত্তরে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত জানান, "জালিয়ানওয়ালাবাগ মূলত হত্যাকাণ্ডে শহিদদের স্মৃতিরক্ষার্থে তৈরি। এখানে শহিদ গ্যালারি এবং সেই কুয়ো রয়েছে যেখানে অনেকে প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তাই কবির কোনও মূর্তি স্থাপনের পরিকল্পনা নেই।"
এই উত্তরকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঋতব্রত বলেন, "জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ও সবচেয়ে তীব্র প্রতিবাদ এসেছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পক্ষ থেকেই। তাঁর নাইটহুড ত্যাগ সেই সময় ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এক প্রতীকী প্রতিবাদ। আজ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের টার্গেট করা হচ্ছে, স্কুলপাঠ্য থেকে রবীন্দ্রনাথের লেখা বাদ দেওয়া হচ্ছে। এটা একধরনের সাংস্কৃতিক বর্জন।"
তিনি আরও বলেন, "রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু একজন কবি বা শিল্পী নন, তিনি ছিলেন এক গভীর রাজনৈতিক সচেতন মানুষ। তাঁর লেখা সেই চিঠি, যা তিনি ভাইসরয়কে লিখেছিলেন, তা মূর্তির সঙ্গে একত্রে প্রদর্শন করা উচিত।"
তৃণমূল কংগ্রেস তাদের এক্স-এ পোস্ট করে জানায়, "জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবাদগুলির একটি ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। তাঁর মূর্তি স্থাপন না করা মানে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের অবদানকে অস্বীকার করা। কেন্দ্র সরকারের উচিত এই ভুল শুধরে নেওয়া এবং রবিগুরুর গৌরবময় অবস্থানকে যথাযথভাবে মর্যাদা দেওয়া।"
উল্লেখ্য, ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল, বৈশাখী উৎসবের দিনে, প্রায় ২০,০০০ নিরস্ত্র মানুষ অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে জমায়েত হয়েছিলেন। ব্রিটিশ জেনারেল ডায়ার সেই জমায়েতে নির্বিচারে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন, যার ফলে শত শত নিরীহ মানুষ নিহত হন। এই ঘটনার প্রতিবাদেই রবীন্দ্রনাথ নাইটহুড ত্যাগ করেন এবং ব্রিটিশ শাসনের মানবাধিকারের দমন নীতির বিরুদ্ধে সবার সামনে প্রতিবাদের এক উদাহরণ স্থাপন করেন।