দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের তরুণ প্রজন্মকে সপ্তাহে ৭০ ঘণ্টা কাজের পরামর্শ দিয়ে চরম সমালোচনার মুখে পড়লেন ইনফোসিসের প্রতিষ্ঠাতা এনআর নারায়ণ মূর্তি। এটা নিতান্তই পুঁজিবাদী মানসিকতা বলে তুলোধনা করল তৃণমূল, সিপিএম এবং কংগ্রেস।
বৃহস্পতিবার এক আলাপচারিতায় নারায়ণ মূর্তি বলেন, “দেশের নতুন প্রজন্মের উচিত সপ্তাহে ৭০ ঘণ্টা কাজ করার জন্য প্রস্তুত থাকা। তবেই দেশে কর্মসংস্কৃতির পরিবেশের উন্নতি ঘটবে। নইলে কোনওভাবেই উন্নত দেশগুলির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে না ভারত। ”
ইনফোসিস কর্তার এই পরামর্শ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “এটা একেবারেই পুঁজিবাদী মানসিকতা। যখন কম্পিউটার ও ইন্টারনেট চালু হয়, তখন ওঁরা বলেছিলেন এতে কাজ সহজ হবে। কম সময়ে বেশি কাজ করা যাবে। দেখা গেল, উল্টো। আরও বেশি শোষণ শুরু হয়ে গেল।”
সেলিমের কথায়, “একজন মানুষকে দিয়ে সপ্তাহে ৭০ ঘণ্টা কাজ করিয়ে নেওয়ার অর্থ পুঁজি ও শ্রমের অনুপাত তথা ভারসাম্যকে আরও ঘেঁটে দেওয়া। এর ফলে বেকারত্ব বাড়বে। আর বেকারত্ব বাড়লে শ্রমের মূল্য তথা পারিশ্রমিক কমবে। ফলে আরও বেশি মুনাফা কামাতে পারবেন পুঁজিপতিরা।”
এ ব্যাপারে সিপিএমের মতোই নারায়ণ মূর্তির সমালোচনা করেছে রাজ্যসভায় তৃণমূলের ডেপুটি লিডার সুখেন্দু শেখর রায়। তাঁর কথায়, “উনি হলেন ক্রোনি ক্যাপিটালিস্টের প্রতিভূ। যে তত্ত্ব উনি খাড়া করতে চাইছেন তাকে বলা যেতে পারে আধুনিক দাসপ্রথা। কর্পোরেট সংস্থায় ইতিমধ্যে এই ধরনের শোষণ চলছে। মুনাফা কামাতে ওঁরা আরও শোষণের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করতে চাইছেন।”
সুখেন্দু শেখরবাবু বলেন, নরেন্দ্র মোদী সরকার এই সব পুঁজিপতিদের হাতে তামাক খাচ্ছে। দেশে শ্রম আইন লঘুতর করতে চেষ্টার কসুর করছে না। আসলে এই সব পুঁজিপতিরা যেরকম বলছেন, সরকার সেরকম নীতি তৈরি করছে। তাতে শোষণের রাস্তা আরও প্রশস্ত হচ্ছে।
ঘটনা হল, এদিন নারায়ণ মূর্তি যে পরামর্শ দিয়েছেন, তাকে ইতিমধ্যে স্বাগত জানাতে শুরু করেছেন দেশের অনেক শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী। শ্রমিকরা বেশি সময় ধরে কাজ করবেন, কে না চায়? কিন্তু শ্রমিক স্বার্থ, তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনযাপনের সময়, পরিবার, মানব সম্পদের বিকাশের বিষয়গুলি এই তর্কে অনুচ্চারিত থেকে গিয়েছে।
এ ব্যাপারে কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য এদিন বলেন, “নারায়ণ মূর্তি কি জানেন যে ১২ ঘণ্টা করে কাজ করতে গেলে শরীর থেকে কত ক্যালোরি বের হয়, আর কত ক্যালরি তার জন্য অর্জন করতে হয়? তিনি কি জানেন তিনি নিজে কত ক্যালোরি খেয়ে থাকেন?” প্রদীপ ভট্টাচার্যের কথায়, “উনি তো সফটওয়্যারের সঙ্গে থাকেন, শ্রমজীবী মানুষদের কাছে এসে ওঁর দেখা উচিত কীভাবে কাজ হয়। আমি ওঁকে অনুরোধ করব একবার কোনও জুটমিলে এসে ম্যানিং করুন। তাহলেই বুঝতে পারবেন ওঁর কথা কতটা হাস্যকর ও কাণ্ডজ্ঞানহীন।”