
রিচার্ড অ্যাটেনবরোর সিনেমা ‘গান্ধী’
শেষ আপডেট: 30 May 2024 16:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রিচার্ড অ্যাটেনবরোর সিনেমা ‘গান্ধী’ রিলিজ হওয়ার আগে গোটা বিশ্ব মহাত্মা গান্ধীকে তেমন চিনত না বলে মন্তব্য করে কড়া সমালেচনার মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কংগ্রেস তীব্র ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছে। প্রাক্তন অর্থ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, বাকি বিশ্ব যদি নাই চিনত তাহলে আইনস্টাইন গান্ধীর কথা জানলেন কী করে?
টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে কংগ্রেসকে গান্ধী নিয়ে কাঠগড়ায় তুলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে কত বড় ফাউল করে বসেছেন সমাজমাধ্যমে চোখ বোলালে তা টের পাওয়া যাচ্ছে। মোদী এমন একটা মন্তব্য করে বসেছেন যে তাঁর দলও এই ব্যাপারে তাঁকে আড়াল করতে পারছে না। প্রধানমন্ত্রীর মূল বক্তব্য ছিল, কংগ্রেস এবং তাদের সরকার গান্ধীজিকে গোটা বিশ্বের কাছে তুলে ধরেনি। ১৯৮২ সালে অ্যাটেনবরোর গান্ধী সিনেমার পর তিনি পরিচিতি পান।
প্রধানমন্ত্রী কত বড় ভুল বলেছেন তা বোঝাতে বহু মানুষ তৎপর হয়েছেন। গান্ধী যে তাঁর কাজের মধ্য দিয়েই গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছিলেন এমন অসংখ্য দৃষ্টান্ত নানাজন তুলে ধরছেন। যেমন জগৎ বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন। তাঁরা কোনও ব্যক্তি বিশেষকে নিয়ে কভার স্টোরি করলে তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত রিসার্চ করে এবং অন্যতম মাপকাঠি হল নির্দিষ্ট কোনও ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির অবদান। দেখা যাচ্ছে, জনপ্রিয় সেই মার্কিন পত্রিকা তাদের ১৯৩১ সালের ৫ জানুয়ারি সংখ্যায় গান্ধীকে নিয়ে কভার স্টোরি করেছিল। শিরোনাম ছিল, ‘সেন্ট গান্ধী—ম্যান অফ দ্য ইয়ার ১৯৩০’। টাইম পত্রিকা এর আগে কোনও ভারতীয় সম্পর্কে সেন্ট বা সাধু শব্দটি ব্যবহার করেনি। বলাই বাহুল্য লেখার বিষয় ছিল ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে গান্ধীর সংগ্রাম এবং একই সঙ্গে তাঁর সহজ সাধারণ জীবনযাপন।
১৯৩০-এর ১২ মার্চ গান্ধী লবন সত্যাগ্রহ শুরু করেন। সেই বছরের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ডান্ডি অভিযান করেন। ২৪ দিনের পদযাত্রার ধাক্কায় ভারতীয়দের লবন তৈরির অধিকার দিতে বাধ্য হয় ব্রিটিশ সরকার। ওই দশক জুড়ে গান্ধীর আন্দোলন ব্রিটিশ সরকারকে পদে পদে বিপাকে ফেলে। এরপর ১৯৩০-এর ৩১ মার্চ এবং ১৯৪৭-এর ৩০ জুন সংখ্যাতেও টাইমের প্রচ্ছদ স্টোরির বিষয় ছিল মহাত্মা গান্ধী।
ওই সব দিনে গোটা বিশ্বের কাছে পরিচিত আর একটি ম্যাগাজিন ছিল ‘লাইফ’। সেটির ১৯৪৬ সালের ২৫ মার্চের সংখ্যার কভার স্টোরি বা মূল বিষয় ছিল গান্ধী। টাইম-এর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যাগাজিন নিউজ উইক-এর একাধিক সংখ্যাতেও ছাপা হয়েছে গান্ধীর কথা। ১৯৪৮-এর ৩০ জানুয়ারি তাঁকে হত্যার খবর পৃথিবীর সমস্ত প্রথমসারির সংবাদপত্র গুরুত্ব দিয়ে ছেপেছিল। নিউজ উইকের কভার স্টোরির বিষয় ছিল, গান্ধী নেই, ভারতের কী হবে?
গান্ধীর মৃত্যু সংবাদে রাষ্ট্রপ্রধানদের শোকবার্তাতেও স্পষ্ট ভারতের এই কৃতি সন্তান তাঁর কাজ দিয়ে জীবদ্দশাতেই বিশ্বের নানা প্রান্তে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। বিশ্বের নানা দেশে ছড়িয়ে ছিলেন তাঁর অনুগামীরা। অ্যাটেনবরোর সিনেমা তৈরির অনেক আগেই বিশ্বের একাধিক দেশে গান্ধীর সম্মানে রাস্তা, পার্ক উৎসর্গ করা হয়।