
সেদিন কার্তিকের তোলা শেষ ছবি
শেষ আপডেট: 17 April 2025 15:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানের রনথম্ভোর ন্যাশনাল পার্কে ঘটল এক মর্মান্তিক ঘটনা। পার্কের মধ্যে থাকা এক মন্দিরে পরিবারের সঙ্গে দর্শন করতে গিয়ে বাঘের হামলায় এক ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির নাম কার্তিক সুমন।
কার্তিকের ঠাকুমার কথায়, তাঁর হাত ধরে হাঁটছিল কার্তিক। ঠিক তখনই একটি বাঘ লাফিয়ে বেরিয়ে এসে শিশুটির ঘাড় কামড়ে ধরে তাকে ঝোপের মধ্যে টেনে নিয়ে যায়। এই ভয়াবহ দৃশ্য চোখের সামনে ঘটতে দেখে হতবাক হয়ে যান কার্তিকের ঠাকুমা এবং কাকা।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘দর্শন-পুজো সেরে আমরা ফিরছিলাম। তখন কার্তিক তার ঠাকুমার হাত ধরে হাঁটছিল। হঠাৎ একটি বাঘ ঝাঁপিয়ে পড়ে, ঘাড় কামড়ে ধরে টেনে নিয়ে যায়।’
খবর পেয়ে বন দফতরের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির দেহ উদ্ধার করে। নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বন দফতর জানিয়েছে, যে বাঘটি আক্রমণ করেছে, তাকে এখনও নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি। তবে ইদানিং ওই এলাকায় অন্তত তিনটি বাঘিনীকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছে।
যে রাস্তা দিয়ে ওই মন্দিরে যাওয়া হয়, সেখানে ট্র্যাফিক যেমন থাকে, তেমন পর্যটকদের আনাগোনাও লেগেই থাকে। ন্যাশনাল পার্কের এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজস্থানের কৃষিমন্ত্রী কিরোরি লাল মীনা। তিনি কার্তিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে শোকপ্রকাশ করেছেন।
কার্তিক তার পরিবারের সঙ্গে বুন্দি জেলার একটি গ্রাম থেকে এসেছিল মন্দিরে পুজো দিতে। তারপর রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছবিও তুলেছিল সে। সেরকমই এক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নীল টি-শার্ট ও জিনস পরা কার্তিক একদিকে লজ্জামুখে হাসছে, পাশে বসে রয়েছে একটি বানর। দুর্ভাগ্যবশত, ওই ছবিগুলোই তার জীবনের শেষ স্মৃতি হয়ে রইল।
প্রসঙ্গত, রনথম্ভোর ন্যাশনাল পার্কে বর্তমানে ৭০টিরও বেশি বাঘ রয়েছে। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক এক একটি বাঘিনী ১৫-২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ঘোরাফেরা করে আর পূর্ণবয়স্ক একটি বাঘের দখল প্রায় তার দশগুণ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। অথচ পার্কের মূল এলাকা ৩০০ বর্গকিলোমিটারেরও কম। ফলে এই সীমিত পরিসরে একদিকে বাঘদের নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ যেমন বাড়ছে, তেমনি মানুষের সঙ্গেও তাদের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।