
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 16 November 2024 15:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেইতেই গোষ্ঠীর ছয় জন নিখোঁজ ছিলেন সোমবার থেকে। শুক্রবার রাতে বরাক নদীতে ভেসে থাকতে দেখা যায় তিনটি দেহ। উদ্ধার করে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য। তারপর শনিবার দুপুরে আরও তিনটি দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে সেই দেহগুলিকেও। যে ছয় জনকে কুকি জঙ্গিরা অপহরণ করেছিল, তাদের দেহই পাওয়া গেল বলে মনে করছে পুলিশ। এর মধ্যে তিন মহিলা ও তিন শিশু রয়েছে।
মৃতদের নাম ইয়ুরেনবাম রানি দেবী (৬০), তেলাম থোবি দেবী (৩১), তেলাম থাজামানবী দেবী (৮), লৈসরাম চিঙ্গখেইঙ্গানবা সিং (২ বছর ৫ মাস), লৈসরাম লাঙ্গাম্বা সিং (৮ মাস)। আরেকজনের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।
সোমবার রাজ্য সরকারি কর্মী লৈসারাম হেরোজিত নামের এক ব্যক্তির দুই সন্তান, স্ত্রী, শাশুড়ি ও শালিকে অপহরণ করে আটক করা হয়। তাদেরই দেহ পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই ছয় জনের দেহ নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে জঙ্গিরা নৃশংসতার প্রমাণ দিল বলে মনে করছে স্থানীয়রা।
সোমবার ছয় জনের নিখোঁজের খবর সামনে আসার পর থেকে সরকারের ওপর চাপ দিতে শুরু করেছিল মণিপুরের একাধিক রাজনৈতিক দল। কুকি জঙ্গিদের দিকে প্রথম থেকে আঙুল তুলেছিল তারা। রাজনৈতিকদলের পাশাপাশি সরকারের ওপর চাপ ছিল বিভিন্ন সংগঠনের। ১৩টি এমন সংগঠনের তরফে বুধবার ইম্ফল বন্ধ রাখা হয়। তাদের সকলেরই দাবি ছিল, তিন মহিলা ও তিন শিশু অর্থাৎ যে ছয় জন নিখোঁজ রয়েছে। তাদের আসলে আটক করে রাখা হয়েছে। তাদের মুক্তি দেওয়া হোক।
কার্যত চাপে পড়ে শুক্রবার রাতে রাজ্যের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। তারপর শুক্রবার রাতেই নদীর তীরে ওই তিনটি দেহ পাওয়া যায়। এর ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই আরও তিনটি দেহ উদ্ধার হয়। ইম্ফল-সহ মণিপুরের সব জেলায় আজ শনিবার স্কুল-কলেজে ছুটি রয়েছে এই ঘটনার জেরে।
গত বছর মে মাস থেকেই উত্তপ্ত মণিপুর। জাতি সংঘর্ষে ২০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এপর্যন্ত। রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে ধর্ষণ, মহিলাদের ওপর নির্যাতনের খবর এসেছে। কয়েকদিনের মধ্যেই পরপর দু'টি নৃশংস মৃত্যু দেখেছে এরাজ্য। যদিও মাঝে বেশ কয়েক মাস কিছুটা শান্ত ছিল উত্তর-পূর্বের এই রাজ্য। সেসময় পরিস্থিতি বুঝে তুলে নেওয়া হয়েছিল আফস্পা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ফের এই আইন লাগু হয় বৃহস্পতিবার।
আফস্পা জারি হওয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টায় কি না মণিপুরের এখন সেটাই দেখার।