
শেষ আপডেট: 6 February 2024 16:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের কুপওয়ারায় লস্কর-ই তৈবা জঙ্গি মডিউলের পর্দা ফাঁস হয়েছে সম্প্রতি। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ও সেনার তৎপরতায় কুপওয়াড়ার লস্কর-মডিউলকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া গেছে। জম্মু পুলিশ আগেই জানিয়েছিল, ওই মডিউলের কয়েকজন সক্রিয় সদস্য পলাতক। তাদের খোঁজেই দেশের নানা প্রান্তে তল্লাশি অভিযান চলছিল। দিল্লি পুলিশের দাবি, লস্কর জঙ্গি সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মধ্যে একজন ভারতীয় সেনার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বলেও দাবি করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, রিয়াজ আহমেদ নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোয়েন্দা মারফৎ তথ্য পেয়েই পুলিশ গ্রেফতার করে রিয়াজকে। পুলিশের দাবি, এই রিয়াজ একসময় ভারতীয় সেনা দলে ছিল। অবসরের পরে কীভাবে লস্কর গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য হয়ে উঠল তা জানা নেই। অনুমান, কুপওয়াড়ার লস্কর-মডিউলের অন্যতম সদস্য ছিল এই রিয়াজ আহমেদ। তার সঙ্গেই ধরা পড়েছে আরও দু’জন খুরশিদ আহমেদ রাথার ও ঘলাম সারওয়ার রাথার। এই দুজনও কুপওয়াড়ার লস্কর-মডিউলের হ্যান্ডলার বলেই দাবি দিল্লি পুলিশের।
দিল্লি পুলিশ বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, রিয়াজ ও ধৃত দু’জন নিয়ন্ত্রণরেখায় অস্ত্রশস্ত্র পাচারের কাজ করত। লস্করের জন্য আসা আগ্নেয়াস্ত্র সীমান্ত পার করিয়ে নিয়ে আসার দায়িত্ব ছিল তাদের উপরে। পাশাপাশি, পাক লস্কর গোষ্ঠীর হ্যান্ডলারদের জম্মু-কাশ্মীরে অনু্প্রবেশ করিয়ে আশ্রয় দেওয়ার কাজও হত। ধৃতদের জেরা করে এ ব্যাপারে জানার চেষ্টা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, লস্কর-ই-তৈবা কিছু দিন ধরেই ভারতে হামলার ছক কষছে। কারণ, আইএসের সঙ্গে তাদের প্রতিযোগিতা। বিশ্বের বড় অংশে জেহাদি আন্দোলনের রাশ এখন আইএসের হাতে। ভারতেও প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে আইএস। ভারত-বাংলাদেশ যে তাদের নিশানায় রয়েছে, তা-ও অনুমান করছেন গোয়েন্দা অফিসাররা। এই পরিস্থিতিতে অস্তিত্ব জানান দিতে নাশকতা ঘটাতে চাইছে লস্কর জঙ্গিরা। যাদের মদত দিচ্ছে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। কুপওয়ারায় এমনই এক লস্কর-মডিউল তৈরি হয়েছিল যেখানে অস্ত্রশস্ত্র আমদানি হচ্ছিল। কিছুদিন আগেই জম্মু পুলিশ ও সেনাবাহিনী এই মডিউলের পর্দা ফাঁস করে।