বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের জবাব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিরোধীদের হট্টগোলে অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যাওয়ায় সেই ভাষণ বাতিল হয়ে যায়। সে কারণে এদিন লোকসভা ধ্বনিভোটে ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাব পাশ করিয়ে নেয় শাসকপক্ষ।
.jpeg.webp)
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপর আক্রমণের কোনও পরিকল্পনাই ছিল না।
শেষ আপডেট: 5 February 2026 16:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভে ব্যাহত সংসদ অধিবেশন। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদজ্ঞাপক ভাষণ দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের জবাব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিরোধীদের হট্টগোলে অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যাওয়ায় সেই ভাষণ বাতিল হয়ে যায়। সে কারণে এদিন লোকসভা ধ্বনিভোটে ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাব পাশ করিয়ে নেয় শাসকপক্ষ।
সংসদীয় সূত্রের দাবি, লোকসভায় বিক্ষোভ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে শারীরিক আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন কংগ্রেসের কয়েকজন সাংসদ। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla) বলেন, তাঁর কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য ছিল যে বিরোধী সাংসদরা ‘অপ্রত্যাশিত কিছু’ করতে পারেন। সেই কারণেই লোকসভা মুলতুবি করে দেওয়া হয় এবং প্রধানমন্ত্রীকে সভাকক্ষে না আসার অনুরোধ করা হয়। এর ফলেই বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছাড়াই রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাব পাশ হয়ে যায়।
অধিবেশন মুলতুবির আগে ওম বিড়লা বলেন, কংগ্রেসের একাধিক সাংসদ প্রধানমন্ত্রী যে আসনে বসেন সেখানে পৌঁছনোর চেষ্টা করতে পারেন বলে তাঁকে জানানো হয়েছিল। তাঁর কথায়, এমন ঘটনা ঘটলে তা দেশের গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পক্ষে ভয়াবহ হতো। সেই কারণেই পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রীকে সভাকক্ষে না আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ করেছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা (Priyanka Gandhi Vadra)। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপর আক্রমণের কোনও পরিকল্পনাই ছিল না। প্রিয়াঙ্কার দাবি, এই ধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মহিলা সাংসদরা ট্রেজারি বেঞ্চের সামনে দাঁড়ালে তাতে আপত্তির কী আছে! সংসদে অচলাবস্থা নিয়ে প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) কথা বলতে দিচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, জনসমক্ষে থাকা তথ্য উদ্ধৃত করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, সরকার কি মার্কিন-ভারত বাণিজ্য চুক্তি (US-India Trade Deal) বা এপস্টাইন ফাইলস (Epstein Files) নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে? কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda) রাহুল গান্ধীকে ‘অবোধ’ বলে কটাক্ষ করায়, তার তীব্র সমালোচনা করেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি বলেন, বিরোধী দলনেতাকে কথা বলতে দেওয়া উচিত এবং এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করে আসলে সরকারের ভয়ই প্রকাশ পাচ্ছে।
এদিকে, কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর (Shashi Tharoor) বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আলোচনায় রাহুল গান্ধী যা বলছিলেন তা জনসমক্ষে প্রকাশিত তথ্যেরই উল্লেখ। তাঁর বক্তব্য, এত বড় আপত্তি তুলে বিরোধী দলনেতাকে থামিয়ে দিয়ে সংসদীয় ব্যবস্থার মধ্যেই বড় সংকট তৈরি করা হয়েছে। তারুরের মতে, বিরোধীদের কথা বলতে না দিলে গণতান্ত্রিক আলোচনার পরিবেশ নষ্ট হবে।