
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
শেষ আপডেট: 23 August 2024 16:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর জি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দেশে যখন তোলপাড় চলছে, তখন নারী নির্যাতনকারীদের জন্য রাস্তার মোড়ে যমরাজ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী কোনও রাখঢাক না করেই বলেন, জো বেটিয়োঁ কি সুরক্ষা কে সাথ খিলওয়ার করেগা তো আগলে চৌরাহে পর উসকা ইন্তেজার যমরাজ করতে মিলেঙ্গে।
প্রসঙ্গত বলা যায়, এর আগে বেশ কয়েকবার রাজ্যে দুষ্কৃতী ও অপরাধীদের হুমকি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, যারা এরকম কাজ করবে তাদের রামনাম সত্য হয়ে যাবে। এবারেও বিজেপি নেতা আদিত্যনাথ প্রায় একই সুরে বুঝিয়ে দিলেন, নারী নির্যাতনকারীদের অথবা মেয়েদের শ্লীলতাহানি, হেনস্তা, যৌন নিগ্রহ কিংবা ধর্ষণ কোনও ক্ষেত্রেই গ্রেফতার, বিচারের পথে হাঁটবে না সরকার। সামনের রাস্তার মোড় পেরনোর আগেই তার জন্য অপেক্ষা করবে যমরাজ অর্থাৎ সাক্ষাৎ মৃত্যু বা শমন।
উল্লেখ্য, যোগী আদিত্যনাথের এই ধরনের মন্তব্যে বিরোধীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নারী নির্যাতনকারীদের নিন্দার ভাষা না থাকলেও আইনের পথে শাস্তির পক্ষে অনেকেই। তাই প্রশাসনিক শীর্ষকর্তার মুখে এহেন বেআইনি কথা শুনে বিরোধী নেতৃত্ব মুখ খুলেছে।
যদিও এসব নিন্দার ঝড় সরিয়ে যোগী আদিত্যনাথ এবারেও দেশের সবথেকে জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সমীক্ষায় উঠে এসেছেন। মুড অফ দি নেশন-এর সমীক্ষায় ধরা পড়েছে দেশে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন যোগী। তাঁর পরেই রয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তৃতীয় স্থানে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩০টি রাজ্যের ৩৩.২ শতাংশ মানুষের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম পছন্দ যোগী আদিত্যনাথকে। তাঁর অনেক পিছনে রয়েছেন আম আদমি পার্টির নেতা কেজরিওয়াল। তাঁর পক্ষে রয়েছে ১৩.৮ শতাংশ সমর্থন। দেশে জনপ্রিয়তম হলেও উত্তরপ্রদেশে আদিত্যনাথের কর্মদক্ষতার হার কমেছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ শতাংশ কমে মাত্র ৩৯ শতাংশ মানুষ তাঁর কাজে খুশি প্রকাশ করেছেন।
১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৬৩ জনের মতামত সংগ্রহ করে অগস্ট পর্যন্ত এই সমীক্ষা তৈরি করা হয়েছে। তাতে যোগী আদিত্যনাথ, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পরের স্থানে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন ও তারপরে রয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। স্ট্যালিনের ভাঁড়ারে রয়েছে মাত্র ৪.৭ শতাংশ ও নাইডুর কাছে রয়েছে ৪.৬ শতাংশের সমর্থন।