
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 30 April 2025 18:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২২ এপ্রিল পহেলগামের বৈসরনে জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয় কাশ্মীরের এক স্থানীয় বাসিন্দা-সহ ২৬ জনের। অতর্কিতে গুলি চালিয়ে বেছে বেছে মেরে ফেলা হয় হিন্দুদের। ঘটনার দায় স্বীকার করে লস্কর-ই-তইবার ছায়া সংগঠন। সূত্রের খবর, গোটা হামলার মূল চক্রী তিনজন। প্রথমজন কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী লস্কর-ই-তইবার প্রধান হাফিজ সইদ। দ্বিতীয় পাকিস্তানের ওই সংগঠনেরই উপ প্রধান সইফুল্লাহ কসুরি ও তৃতীয়জন হাসিম মুশা। প্রথম দু'জন পাকিস্তানে থাকলেও তৃতীয়জন রয়েছে ভারতে, এমনই বলছে গোয়েন্দা সংস্থা। এছাড়াও তাঁর সম্পর্কে তদন্তকারী আধিকারিকদের হাতে রয়েছে আরও বিস্ফোরক তথ্য।
গোপনসূত্রে পুলিশের কাছে খবর আছে, হাশিম মুসা বর্তমানে দক্ষিণ কাশ্মীরের কোথাও আত্মগোপন করে আছে। তাকে খুঁজতে পাইন ও চিনার বনে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মনে করছে, সে পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ হাশিম মুসাকে ধরিয়ে দেওয়ার পুরস্কার ঘোষণা করেছে ২০ লক্ষ টাকা। যিনি মুসা সম্পর্কে তথ্য দেবেন, তাঁর পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মুসা সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের। সেই সূত্রেই জানা গেছে, সে পাকিস্তানের স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের প্যারা-কম্যান্ডো ছিল এক সময়। পরে লস্কর-ই-তইবায় যোগ দেয় এবং একাধিক জঙ্গি হামলায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। ২০২৩ সালে সে ভারতে প্রবেশ করে বলে খবর।
গত বছর অক্টোবরে জম্মু ও কাশ্মীরের গান্দেরবাল জেলায় হওয়া একটি জঙ্গি হামলায় নাম জড়ায় হাশিম মুসার। সেই ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছিল। পরে বারামুল্লায় হওয়ায় একটি হামলার সঙ্গেও জড়িত ছিল। নিরাপত্তা সংস্থার মতে, হাশিম মুসা উপত্যকায় অন্তত ছয়টি জঙ্গি হামলায় অংশ নিয়েছে এপর্যন্ত।
পহেলগামের ঘটনার তদন্তে জানা গেছে, এই হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে হাশিম মুসা অন্যতম। মনে করা হচ্ছে, তিনি ২২ এপ্রিল বৈসরনে নিজে উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনায় আদিল থোকার এবং আসিফ শেখেরও নাম জড়িয়েছে। তাদের প্রত্যেকের মাথার দাম দেওয়া হয়েছে ২০ লক্ষ টাকা।
এই ঘটনার পর একাধিক পদক্ষেপ করেছে দিল্লি। অভ্যন্তরীণ বৈঠক হয়েছে দফায় দফায়। পাকিস্তানের নাগরিকদের ফেরানো হয়েছে ওয়াঘা দিয়েয কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।