
শেষ আপডেট: 10 November 2023 11:39
বিশ্বের তাবড় তাবড় ধনকুবেরদের তিনি টেক্কা দেন অনায়াসেই। মুকেশ আম্বানির প্রাসাদপম বাড়ি থেকে বিলাসবহুল গাড়ি-সব কিছুতেই থাকে চমক। আম্বানিদের অ্যান্টিলিয়ার আড়ম্বরের কাছে সবই যেন নস্যি। সেই অ্যান্টিলিয়াকেও দশ গোল দিয়ে দেবে গায়কোয়াড়দের এই প্রাসাদ।
ব্রিটিশ ভারতের দেশীয় রাজপরিবারের মধ্যে অন্যতম ছিল গায়কোয়াড় বংশ। প্রাচীন মারাঠা সাম্রাজ্যের মূল শহর বডোদরা ছিল তাদের শাসনের কেন্দ্র। সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে গায়কোয়াড়দের বিথ্যাত লক্ষ্মীবিলাস প্যালেস। মহারাজা তৃতীয় সয়াজি গায়কোয়াড় ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে এই প্রাসাদ তৈরি করিয়েছিলেন। প্রায় ১৩০ বছর আগে সে সময় খরচ পড়েছিল ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাতাশ লক্ষ টাকা।
ইন্দো-সারাসেনিক স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি লক্ষ্মীবিলাস প্রাসাদ আজও বরোদার রাজপরিবারের বাসভবন। ১৮৯০ সালে এই প্রাসাদ তৈরি করান বড়োদরার তৎকালীন শাসক মহারাজা সয়াজিরাও গায়কোয়াড়। প্রাসাদের মূল স্থপতি ছিলেন মেজর চার্লস ম্যান্ট।
প্রাসাদ তৈরি করতে খরচ হয়েছিল ৬০ লক্ষ টাকা। ৫০০ একর জমির উপর নির্মিত এই প্রাসাদের স্থাপত্য-ভাস্কর্য চমকে দেওয়ার মতো। আয়তনে এই প্রাসাদ লন্ডনের বাকিংহাম প্যালেসের চার গুণ।
ব্রিটিশ যুগের গুজরাতে সব চেয়ে আকর্ষণীয় প্রাসাদ লক্ষ্মীবিলাস প্রাসাদের মোজাইক, শ্যান্ডেলিয়র ও নানা শিল্পকলা সুন্দর ভাবে রক্ষা করা হচ্ছে। মহারাজা সয়াজিরাও গায়কোয়াড়ের আমন্ত্রণে বিখ্যাত চিত্রশিল্পী রাজা রবি বর্মা প্রাসাদ অলংকরণের দায়িত্ব নেন। তাঁর অঙ্কিত নানা শিল্পকর্ম শোভা পাচ্ছে প্রাসাদে। অস্ত্রশস্ত্র ও শিল্পকলার বিপুল সংগ্রহ রয়েছে এই প্রাসাদে। ইন্দো গথিক স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত এই প্রাসাদকে বলা হয় বিশ্বের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সবথেকে বড় বাসভবন।
ইউরোপীয় অতিথিদের জন্য মহারাজা প্রতাপ সিংহের নির্দেশে তিরিশের দশকে এই প্রাসাদে তৈরি হয়েছিল গল্ফ কোর্স। তিন দশক পরে প্রতাপসিংহের নাতি সমরজিৎ সিংহের আমলে সেই গল্ফ কোর্স সংস্কারের পরে খুলে দেওয়া হয় জনসাধারণের জন্য। ১৭০টি ঘর রয়েছে প্রাসাদে। প্রাসাদের ভিতরেই আছে প্রাচীন ধাপকুয়ো বা স্টেপ ওয়েল। তার নাম ‘নবলাখি বাওলি’। শোনা যায়, এটা প্রাসাদ তৈরির কয়েকশো বছর আগে থেকেই সেখানে ছিল। বডোদরার জে এন মার্গে অবস্থিত এই প্রাসাদ সোমবার ছাড়া বাকি সব দিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।