ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 March 2025 15:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যৌন হেনস্থার অভিযোগ কোনও মহিলা তুললেই সবসময় তাকে 'ধ্রুব সত্য' (Gospel Truth) বলে মেনে নেওয়া যাবে না। সমান গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে অভিযুক্তের বক্তব্যকেও। সম্প্রতি এক মামলায় একথাই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল কেরল হাইকোর্ট (Kerala High Court)। পাশাপাশি পুলিশকে (Police)ও সতর্ক দেওয়া হয়েছে, শুধুমাত্র অভিযোগকারিণীর বক্তব্য শুনে যৌন নির্যাতনের মামলায় একতরফা তদন্ত করা যাবে না।
সম্প্রতি সংস্থার এক মহিলা কর্মীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে ৫৭ বছর বয়সি এক পুরুষ কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের হয় মামলা। কিন্তু অভিযুক্তের দাবি ছিল, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এরপরই জামিনের আবেদন করে কেরল হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিযুক্ত।
অভিযুক্তের দাবি, সংস্থায় ঠিকমতো কাজ না করায় অভিযোগকারিণীকে তিনি কাজ থেকে সরিয়ে দেন। তারই প্রতিশোধ নিতেই ওই মহিলা পাল্টা ভুয়ো মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগ।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মামলাটি কেরল হাইকোর্টের বিচারপতি পি ভি কুনহিকৃষ্ণনের বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। শুনানিতে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, শুধুমাত্র মহিলার বক্তব্যকে সত্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অভিযোগকারিণী এবং অভিযুক্ত- উভয়েরই দাবি যাচাই করে দেখতে হবে তদন্তকারীদের। একতরফা বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্ত করলে ভুল প্রভাব পড়তে পারে। যার জেরে একজন নির্দোষ ব্যক্তিরও অনেক সময় সমাজে সম্মান নষ্ট হতে পারে।
পাশাপাশি হাইকোর্ট আরও জানিয়েছে, মিথ্যা অভিযোগের কারণে একজন নাগরিকের যদি ক্ষতি হয়, তা শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পূরণ করা যায় না। তাই তদন্তকারী আধিকারিকদের দু'পক্ষের বক্তব্যকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আদালতে মামলাকারীর আইনজীবীর দাবি, পুলিশ যৌন হেনস্থার মামলা রুজুর আগে পুরনো অভিযোগটি খতিয়ে দেখেনি। চেয়ে পাঠানো সমস্ত তথ্য জমা দেওয়া হলেও বাহের লাভ কিহুই হয়নি। বিচারপতি কুনহিকৃষ্ণন জানান, তদন্তে যদি দেখা যায় মহিলা মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন, তবে অভিযোগকারিণীর বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ করার অধিকার রয়েছে তদন্তকারীদের।