.webp)
শেষ আপডেট: 20 November 2023 12:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু যত দ্রুত সম্ভব তাঁর দেশ থেকে ভারতীয় সেনাদের সরিয়ে নিতে প্রবল চাপ তৈরি করেছেন। গত মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি এই ব্যাপারে দেশবাসীকে কথা দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর পরই ঘোষণা করেন, ভারতীয় সেনা আর মালদ্বীপে থাকতে পারবে না। এমনকী তাঁর শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ভারত সরকারের মন্ত্রী কিরেন রিজিজু’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময়ও তিনি সেনা সরারোর প্রসঙ্গ তোলেন। নয়াদিল্লির কর্তারা মুইজ্জুর এই আচরণে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। তিনি কূটনৈতিক সৌজন্য উপেক্ষা করেছেন বলে মনে করছেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের অফিসারেরা।
মুইজ্জু শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ রক্ষা করেননি। তিনি বিজ্ঞানমন্ত্রী রিজিজুকে পাঠান। ভারতীয় সেনাকে মালদ্বীপ ছাড়া করতে মুইজ্জুর জোরাজুরিতে ভারত সরকার অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। সেই বার্তা দিতেই মোদী শপথ অনুষ্ঠান এড়িয়ে যান, তাই-ই শুধু নয়, তিনি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে কম গুরুত্বের মন্ত্রী রিজিজুকে পাঠান।
মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্টের ভারতীয় সেনাদের নিয়ে এমন আপত্তিতে ভারত সরকার অত্যন্ত বিরক্ত। প্রতিবেশীর এমন আচরণে যথেষ্ট অপমানিত বোধ করছে নয়াদিল্লি। কারণ, মালদ্বীরের বিপদের সময় সে দেশের সরকারের কথায় ভারতীয় সেনা পাঠানো হয়েছিল। জওয়ান ও অফিসার মিলিয়ে বর্তমানে সে দেশে মাত্র ৭০ জন ভারতীয় সেনাকর্মী আছেন। তাঁরা স্যাটেলাইট ও ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন দেখভাল করে থাকে। এছাড়া একটি ছোটমাপের যুদ্ধ জাহাজ আছে, যেটি মালদ্বীপের স্পেশ্যাল ইকনোমিক জোন পাহারা দিয়ে থাকে।
কিন্তু ভারতীয় সেনা সবচেয়ে বড় যে পরিষেবা দিয়ে থাকে তা হল দ্বীপরাষ্ট্রটির দুর্গম এলাকায় অসুস্থ ব্যক্তিদের এয়ারলিফ্ট করে রাজধানী মালেতে নিয়ে এসে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে থাকে। এ বছর এখনও পর্যন্ত ১৪৩ জন নাগরিক এই সুবিধা পেয়েছেন ভারতীয় সেনার কাছ থেকে। প্রতি বছরই দেড়শো থেকে পৌনে দু’শো মানুষ এই সুবিধা পেয়ে থাকেন।
নয়াদিল্লির কর্তাদের ধারণা, মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্টের উপর চিনের চাপ আছে। বেজিং চায় না ভারত মহাসাগরের ওই দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে ভারতীয় সেনা থাকুক। মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্ট অবশ্য বলেছেন, এমন নয় যে ভারতীয় সেনাদের সরিয়ে চিনা সৈন্যদের মালদ্বীপে ডাকা হবে। আমরা আসলে মালদ্বীপকে বিদেশি সেনা মুক্ত করতে চাইছি।
যদিও নয়াদিল্লির ধারণা, চিনের চাপেই নতুন প্রেসিডেন্ট উঠতে বসতে ভারতীয় সেনা সরানোর কথা বলছেন। আসলে ভারতীয় সেনা সরে গেলে ভারত মহাসাগরে চিনের রণতরীগুলি আরও ভালভাবে নজরদারি এবং নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে পারবে। এখন দেখার মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্টের কথা মতো ভারত সেনা প্রত্যাহার করে কি না।