
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়
শেষ আপডেট: 12 July 2024 11:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের কোর্সে মনুসংহিতা বা মনুস্মৃতি পড়ানোর সুপারিশ করেছিল সংশ্লিষ্ট বিভাগ। তা নিয়ে আপত্তি তুলেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম শিক্ষকদের সংগঠন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক টিচার্স ফ্রন্ট। উপাচার্যকে চিঠিও দিয়েছিল তারা। উপাচার্য যোগেশ সিংহ বিভাগীয় সুপারিশ খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, আইনে কোর্সে মনুস্মৃতি পড়ানোর কোনও প্রয়োজন নেই।
উপাচার্যের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আইন বিভাগের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিভাগের তরফে আগে দাবি করা হয়েছিল সর্বসম্মতভাবে এই প্রস্তাব বিভাগীয় ফ্যাকাল্টি কাউন্সিল গ্রহণ করেছিল।
মনুস্মৃতি বা মনুসংহিতা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক নতুন নয়। এটি হল, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ব্যবহারিক অনুশাসন সম্বন্ধিত স্মৃতিগ্রন্থ। যা ১২টি প্রকরণে বিভক্ত। মনু ঋষি তাঁর স্মৃতি বা সংহিতায় এই আচরণ বিধি উল্লেখ করেছেন। তা নিয়ে সমাজের বিভিন্ন অংশের আপত্তির কারণ, মনুস্মৃতিতে নারীর প্রতি অসম্মান, অবমাননাকর বেশ কিছু পঙতি আছে। তাছাড়া জাতপাতের বিভাজনের স্বীকৃতি রয়েছে তাতে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম শিক্ষকদের বক্তব্য, মনুসংহিতা পড়ানো দেশের প্রগতিশীলতার সংস্কৃতি এবং সংবিধান বিরোধী পদক্ষেপ হবে। অন্যদিকে, হিন্দুত্ববাদীরা মনে করে, মনুসংহিতায় সনাতন ধর্মের ব্যবহারিত আচার বিচারের উল্লেখ রয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ায় যেগুলির গুরুত্ব পেয়ে থাকে। তাই আইনের কোর্সে তৃতীয় বর্ষে এই বিষয়ে পড়ানোর সুপারিশ করেছিল ফ্যাকাল্টি কাউন্সিল। সেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে কী হবে না সে ব্যাপারে উপাচার্য এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কি না সে প্রশ্নও উঠেছে।