
শেষ আপডেট: 24 November 2023 09:09
দ্য ওয়াল ব্যুরে: বৃহস্পতিবারের মধ্যেই উত্তরকাশীর টানেল বিপর্যয়ে উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। শ্রমিকদের বের করে আনার জন্য ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে যে ইভাকুয়েশন পাইপ ঢোকানো হচ্ছিল কমে আসছিল তার দূরত্বও। আর ঠিক তখনই ছন্দপতন! ফের বাধার মুখে পড়তে হল উদ্ধারকারী দলকে।
সংবাদসংস্থা সূত্রের খবর, যে যন্ত্র দিয়ে সুড়ঙ্গের মাটি কাটা হচ্ছিল তাতে ফের প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিয়েছে। যার জেরে আপাতত থমকে গিয়েছে উদ্ধারকাজ। যে কাঠামোর উপর দাঁড় করিয়ে যন্ত্রটিকে চালানো হচ্ছিল তাতেও ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
উদ্ধারকাজে সাহায্য নেওয়া হচ্ছে মার্কিন সুড়ঙ্গ বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্সের। বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আর্নল্ড ডিক্স বলেছেন, “আশা করেছিলাম বৃহস্পতিবারের মধ্যে উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। কিন্তু ফের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। মেশিনের কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে খননকাজ আপাতত বন্ধ রাখতে হয়েছে।”
উত্তরকাশীতে টানেল বিপর্যয়ের ১২দিন পেরিয়ে গেছে। উদ্ধারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আরই মাঝে নতুন করে বাধা তৈরি হওয়ায় সব মহলে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। সুড়ঙ্গে আটকে রয়েছেন ৪১ জন শ্রমিক। ইতিমধ্যে তাঁদের জন্য তৈরি হয়েছে অস্থায়ী হাসপাতাল। সুড়ঙ্গের বাইরে রয়েছে অন্তত ৪০টা অ্য়াম্বুল্যান্স। এমনকী, রয়েছে এয়ার লিফটের ব্যবস্থাও।
এর আগে মনে করা হচ্ছিল, বুধবার রাতেই ৪১ শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। সেই লক্ষ্যে রাতভর কাজ করেছিলেন উদ্ধারকারীরা। কিন্তু সুড়ঙ্গের ভিতরে থাকা লোহা এবং স্টিলের জালে ড্রিল মেশিন আটকে যাচ্ছিল বার বার। শেষপর্যন্ত গ্যাস কাটার এনে সেই জঞ্জাল সাফ করতে হয়। ভোররাতের দিক থেকে ফের শুরু হয় উদ্ধারকাজের প্রক্রিয়া। ধ্বংসস্তূপকে আড়াআড়িভাবে কেটে সুড়ঙ্গের ভিতরে বিশালাকার পাইপ বসিয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা শুরু হয়। ক্রমেই কমে আসছিল দূরত্ব। আর তখনই নতুন করে যান্ত্রিক ত্রুটি।
দুর্ঘটনাস্থলের ঠিক বাইরেই কন্ট্রোলরুম তৈরি হয়েছে। সুড়ঙ্গের বাইরে পৌঁছেছে চিকিৎসার যাবতীয় সরঞ্জামও। যাতে উদ্ধারের পরই শ্রমিকদের চিকিৎসা শুরু করে দেওয়া যায়, তার জন্য সেই কন্ট্রোলরুমের ভিতরেই আট শয্যার একটি অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। সেখানে সবসময় থাকছেন ১৫ জন চিকিৎসকের একটি দল। তাছাড়া অক্সিজেন সিলিন্ডার, অক্সিজেন মাস্ক, স্ট্রেচার, রক্তচাপ মাপার যন্ত্র, রক্তচাপ স্বাভাবিক করার যন্ত্রও রয়েছে কন্ট্রোলরুমে। চিনিয়ালিসাঘরের একটি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারেও শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কেউ থাকলে যাতে দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায় সে জন্য অ্যাম্বুল্যান্স ও হেলিকপ্টারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
উত্তরকাশীর সিল্কইয়ারা এবং দণ্ডলগাঁওয়ের মাঝে তৈরি হচ্ছিল ওই সুড়ঙ্গটি। টানেলটি সাড়ে চার কিলোমিটার লম্বা। তারই মধ্যে ১৫০ মিটার লম্বা এলাকা জুড়ে আচমকাই ধস নামে। আটকে পড়েন ৪১ শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে বাংলারও তিনজন রয়েছেন। গত ১২ দিন ধরে অন্ধকার সুড়ঙ্গে আটকে রয়েছেন তাঁরা।