
শেষ আপডেট: 22 January 2024 20:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অযোধ্যায় রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়ে গেল। প্রধান যজমান ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এত বৃহৎ এই অনুষ্ঠানে যজমান হওয়া তো চাট্টিখানি কথা নয়। তার জন্য প্রস্তুতি লাগে। নিজের দেহ-মন পবিত্র, শুদ্ধ করে তুলতে হয়। ফলে রীতি-নীতি মেনেই নরেন্দ্র মোদী নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য। অন্যান্য শুদ্ধাচারের সঙ্গে তিনি গত ১১ দিন উপবাস করেছেন প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানের জন্য।
উপবাসের পর সেটা ভাঙার রীতিনীতিও আলাদা। গান্ধীজি উপবাস ভাঙতেন ফলের রস খেয়ে। তারপর থেকে আমাদের দেশে রাজনৈতিক কারণে উপবাস যা অনশন নামেই অধিক পরিচিত, ভাঙায় ফলের রসই জনপ্রিয় হয়েছে। শারীরবৃত্তীয় কারণেও হয়তো সেটাই স্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয়ে এসেছে। কিন্তু ধর্মের পথ কিছুটা আলাদা। এখানে উপবাস ভঙ্গে ফলের রসের প্রচলন নেই।
তাহলে কী খেয়ে উপবাস ভঙ্গ করলেন মোদী? তিনি নিলেন এক চামচ চরণামৃত। গোবিন্দ দেব গিরি মহারাজ সেই চরণামৃত প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে উপবাস ভঙ্গ করালেন। ক্যামেরাবন্দি হল আর এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
১২ জানুয়ারি মোদী ঘোষণা করেছিলেন রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানে যজমান হওয়ার জন্য তিনি ১১ দিন বিশেষ আচার পালন করবেন। তাঁর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে একটি অডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি এই ‘ঐতিহাসিক’ এবং ‘পবিত্র’ অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকতে পেরে নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছেন। তিনি বলেন, ‘আর মাত্র ১১ দিন বাকি রয়েছে রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানের। ভগবান আমাকে সৃষ্টি করেছেন ভারতের জনগণের প্রতিনিধি হয়ে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য। এই কথাটি মাথায় রেখে আমি আজ থেকে আগামী ১১ দিন বিশেষ আচার পালন করব।‘
বিশেষ আচার ঠিক কী সেটা প্রধানমন্ত্রী তখন নির্দিষ্ট করে জানাননি। কিন্তু রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর চরণামৃত পানের পর জানা গেল তিনি ১১ দিন উপবাস করেছিলেন এবং ২২ জানুয়ারি সেই উপবাস তিনি ভঙ্গ করলেন।