
অজিত পাওয়ার
শেষ আপডেট: 1 July 2024 12:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এরই নাম রাজনীতি। কখনও কারও পৌষ তো কারও ভাদ্রমাস। উল্টোও যেন সময়ের অপেক্ষা। মহারাষ্ট্রে রাজনীতির আলোচনা জুড়ে এখন পৌষ আর ভাদ্রমাস নিয়ে চর্চা। গত বছর এই সময় কার্যত নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন অজিত পাওয়ার। কাকা শরদ পাওয়ারের তৈরি দল ভেঙে সিংহভাগ বিধায়ককে নিয়ে সরকারে যোগ দিয়েছিলেন। রাতারাতি হয়ে যান মহারাষ্ট্র সরকারের উপ মুখ্যমন্ত্রী। বন্ধ হয়ে যায় তাঁর বিরুদ্ধে সেচ দফতরের কয়েক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে চলা তদম্ত। বিরোধীদের কথায়, বিজেপির ‘ওয়াশিং মেশিন’-এ রাতারাতি শুদ্ধ হয়ে যান অজিত।
সেই অজিত এখন ঘরে-বাইরে প্রবল চাপে। মহারাষ্ট্র্রের রাজনৈতিক মহল মনে করছে, অজিতের রাজনৈতিক অস্তিত্বই সংকটের মুখে। দলের ২৭জন বিধায়ক এনসিপি-র প্রতিষ্ঠাতা শরদ পাওয়ারের শিবিরে ফিরে যাওয়ার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন। এই ধাক্কা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে অজিতের পক্ষে। আসছে নভেম্বরে মহারাষ্ট্র বিধানসভার ভোট। তার আগে ফের শরদের গোষ্ঠীর নির্বাচন কমিশন থেকে মূল এনসিপি নাম এবং ঘড়ি প্রতীক ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
অন্যদিকে, অজিতের এনসিপি-কে জোট সরকারে রেখে আগামী বিধানসভা নির্বাচন লড়াইয়ে ঘোরতর আপত্তি উঠেছে বিজেপির অন্দরে। সপ্তাহ দুই আগে অজিতকে সরকারে নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল আরএসএস। এখন বিজেপির রাজ্য নেতারাও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।
অন্যদিকে, অজিতকে নিয়ে গোড়া থেকেই আপত্তি ছিল একনাথ শিন্ডের শিবসেনার। বিজেপির চাপে অজিতকে জোটে নিতে রাজি হন শিন্ডে। পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়ে যায় লোকসভা ভোটের পর। মহারাষ্ট্রে লোকসভায় ৩৯টি আসনের মধ্যে ইন্ডি জোট ৩০টিতে জয়লাভ করে। এই বিজয়ের পিছনে প্রবীণ নেতা শরদের অবদান কংগ্রেসও স্বীকার করে। বিরোধী ইন্ডি জোটের অভিভাবক হিসাবে শরদ যথেষ্ট ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়াতেই মহারাষ্ট্রের রাজনীতির হাওয়া ঘুরে যায়। চিন্তায় পড়েছে ক্ষমতাসীন জোট সরকারও। লোকসভা ভোটের ফল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শিন্ডে এবং উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিশের একাধিকবার একান্ত আলোচনায় জোটের ফাটলও স্পষ্ট হয়েছে। তারমধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়েও বিবাদ চরমে উঠেছে। ২৮৮ আসনের মধ্যে শিন্ডে দেড়শোটিতে লড়াইয়ের দাবি জানিয়েছেন। বিজেপি তা কিছুতেই মানতে নারাজ।
শরদ পাওয়ার অবশ্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অজিতের সঙ্গে যাওয়া সব বিধায়ককে তিনি নিজের শিবিরে ফেরাবেন না। আপাতত পনেরো জনকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ঘনিষ্ঠ মহলে শরদ বলেছেন, অজিতের দল ভাঙানোর সিদ্ধান্তে তিনি যত না আঘাত পেয়েছিলেন, তারচেয়ে বেশি পেয়েছেন লোকসভা ভোটে বারামতীতে বোন সুপ্রিয়া সুলহের বিরুদ্ধে অজিত তাঁর স্ত্রীকে প্রার্থী করায়। শরদ দীর্ঘদিন বারামতীর সাংসদ ছিলেন। পরে তাঁর মেয়ে সুপ্রিয়া ওই আসন থেকে তিনবার সাংসদ হয়েছেন। এবার সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও অজিত খুড়তুতো বোনের বিরুদ্ধে স্ত্রী’কে জেতাতে পারেননি।