
দূষণ শুধু বাতাসেই নয়, গঙ্গোত্রী বা গঙ্গার উৎসস্থলেও থাবা মেরেছে।
শেষ আপডেট: 14 November 2024 16:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যমুনা নদীতে ফেনা দেখে যাঁরা আঁতকে উঠেছিলেন, তাঁদের চমকে দেওয়ার মতো তথ্য বেরিয়ে এল গঙ্গা দূষণ নিয়ে উত্তরাখণ্ড সরকারের এক রিপোর্টে। বৃহস্পতিবার দূষণের কারণে সকাল থেকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আগ্রার তাজমহল ধোঁয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছিল। বাস্তবিক দর্শকদের চোখের সামনে উধাও হয়ে গিয়েছিল ইউনেস্কোর বিশ্ব হেরিটেজ সৌধ। ফলে দূষণ শুধু বাতাসেই নয়, গঙ্গোত্রী বা গঙ্গার উৎসস্থলেও থাবা মেরেছে।
গঙ্গা দূষণ নিয়ে কয়েক দশক ধরে চর্বিতচর্বণ আন্দোলন, ফাইল চালাচালি, আদালতে চৌকাঠে ঘোরাঘুরি চলছে। এতদিন জানা ছিল, উৎস থেকে গঙ্গা নদী যত অববাহিকার দিকে গড়িয়েছে, ততই দূষণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু, এখন জানা গেল উৎসস্থল থেকেই নর্দমার ফেলা জলে দূষিত হচ্ছে গঙ্গা।
জাতীয় পরিবেশ আদালতে উত্তরাখণ্ড সরকার জানিয়েছে, নিকাশি জলশোধন কেন্দ্রের বর্জ্য জল থেকে গঙ্গার উৎসস্থল দূষিত হচ্ছে। উত্তরাখণ্ডে গঙ্গা দূষণ রোধ ও নিয়ন্ত্রণের উপর একটি মামলার শুনানিতে একথা জানায় রাজ্য সরকার। এর আগে একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ আদালত উত্তরাখণ্ড সরকার এবং অন্যান্যের জবাব তলব করেছিল।
পরিবেশ রক্ষা কর্মী এমসি মেহতা পরিবেশ আদালতে গঙ্গা এবং শাখা নদীগুলিতে দূষণ নিয়ে একটি আবেদন করেছিলেন। পরিবেশ আদালত বেঞ্চের প্রধান এনজিটি চেয়ারপার্সন বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব, সুধীর আগরওয়াল ও বিশেষজ্ঞ সদস্য এ সেনথিল ভেল রাজ্য সরকারের আইনজীবীর পেশ করা তথ্যকে লিপিবদ্ধ করেন। সেখানে বলা হয়েছে, পবিত্র গঙ্গা নদীর উৎসমুখ থেকেই তা দূষিত হচ্ছে নিকাশি জল ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের বর্জ্য জল থেকে।
রাজ্যের হলফনামা অনুসারে, দিনপ্রতি ১০ লক্ষ লিটার জলের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে তাতে সর্বাধিক সম্ভাব্য সংখ্যার ফেকাল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া রয়েছে ৫৪০/১০০ এমএল পরিমাণের। ফেকাল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া মানুষ ও পশুর মলমূত্র থেকে পাওয়া যায়। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের স্বাস্থ্যমান অনুসারে খোলা জায়গায় স্নানের ক্ষেত্রে এমপিএনের সূচক থাকা উচিত ৫০০/১০০।
এর প্রেক্ষিতে পরিবেশ আদালত রাজ্যের মুখ্যসচিবকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেয় এবং একটি বিস্তারিত স্ট্যাটাস রিপোর্ট তৈরির আদেশ দিয়েছে। পরিবেশ আদালত আরও বলেছে, আমরা খবর পেয়েছি ৬৩টি নর্দমা থেকে নির্গত জল পরিশোধন না করেই সরাসরি গঙ্গা ও শাখা নদীগুলিতে এসে মিশছে।