
প্রতীকী ছবি। এআই জেনারেটেড।
শেষ আপডেট: 6 March 2025 15:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলসূত্র পরেননি, সিঁদুর নেই! আপনার স্বামী আপনার উপর আকৃষ্ট হবেন কেন? একটি গার্হস্থ্য হিংসা মামলায় স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ আনা স্ত্রীকে এই ভাষাতেই তর্কবিতর্কে জড়ালেন বিচারক। ঘটনাটি ঘটে পুনের জেলা আদালতে। বিচারক নিজে স্বামী-স্ত্রীর ঝামেলায় মধ্যস্থ হয়ে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করলে একের পর এক যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি চালাচালি হতে শুরু করে। তারই মাঝে একসময় বিচারক বলে বসেন, আপনি মঙ্গলসূত্র পরেন না, সিঁদুর দেননি, আপনার স্বামী কেন আকৃষ্ট হবেন?
আইনজীবী অঙ্কুর আর জাহাঙ্গিরদার সোশ্যাল মিডিয়ায় জেলা আদালতের বিচারক ও ওই মহিলা আবেদনকারীর মধ্যে বচসার ভিডিও পোস্ট করেন। ইতিমধ্যেই যে কথোপকথন ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। তিনি লিখেছেন, স্বামী-স্ত্রী কিছুকাল আগেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছেন। বিচারক তাঁদের পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্যে সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করছেন।
সেই কথা কাটাকাটির মধ্যে বিচারক মহিলাকে বলেন, আমি দেখতে পাচ্ছি যে আপনি মঙ্গলসূত্র পরেননি। কপালে টিপ বা সিঁদুর কিছুই নয়। আপনি যদি বিবাহিত রমণীর মতো আচরণ না করেন, তাহলে আপনার স্বামীই বা কেন আপনার প্রতি আকর্ষণ বোধ করবেন? উল্লেখ্য, বিবাহিত মহিলা মঙ্গলসূত্র বা টিপ না পরার জন্য এই প্রথমবার আদালতে ভর্ৎসিত হলেন তা নয়। ২০২২ সালে মাদ্রাজ হাইকোর্ট এক মামলাকারী স্বামীকে বিবাহ বিচ্ছেদের অনুমতি দিয়েছিল এই কারণে যে তাঁর স্ত্রী মঙ্গলসূত্র পরেননি।
এই আইনজীবী তাঁর মক্কেলের সঙ্গে কথোপকথনের সময় মধ্যস্থের ভূমিকা নেওয়া বিচারকের কথা তুলে ধরে লিখেছেন, তিনি বলেছেন, মেয়েদের কিছু নমনীয় হতে হয়। মহিলা খোরপোশের দাবি জানালে বিচারক একথা বলেন ওই স্ত্রীকে। বিচারকের কথায়, যদি কোনও মহিলা ভাল টাকা রোজগার করেন, তাহলে তিনি সবসময় তাঁর থেকে বেশি রোজগার করা পুরুষ পছন্দ করেন। তিনি কখনই তাঁর থেকে কম রোজগার করা স্বামী বেছে নিতে চাইবেন না। অথচ উল্টোদিকে একজন পুরুষ যদি ভাল রোজগার করেন তো তিনি ইচ্ছে করলে বাড়ির কাজের লোক, যিনি বাসন ধোওয়ামোছা করেন, তাঁকেও বিয়ে করতে পারেন। দেখুন তো পুরুষরা কত উদার ও নমনীয় এক্ষেত্রে। আপনারও উচিত মাসোহারা নিয়ে নমনীয় হওয়া, সবসময় একবগ্গা হওয়া উচিত নয়, বলেন বিচারক।