
শেষ আপডেট: 9 December 2023 07:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে সংসদের এথিক্স কমিটি যে সব অভিযোগ করায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে, সেই বিষয়গুলি নিয়ে ইডি-সিবিআই-এনআইএ-র মতো কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলি এরপর তদন্ত করতে পারে। এথিক্স কমিটি তাদের রিপোর্টে এই ব্যাপারে সরকারের কাছে দুটি সুস্পষ্ট সুপারিশ করেছে।
মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে আগেই লোকপালের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়কদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান করে থাকে লোকপাল, লোকায়ুক্তের মতো সংস্থাগুলি। নিশিকান্তের দাবি, তাঁর অভিযোগের প্রেক্ষিতে লোকপাল সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। যদিও লোকপাল সরকারিভাবে কিছু জানায়নি।
এথিক্স কমিটি তাদের রিপোর্টে বলেছে, মহুয়ার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন এবং সংসদের মর্যাদাহানীর কারণে তাঁরা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছে। কিন্তু অভিযোগগুলির মধ্যে দুটি গুরুতর বিষয় আছে, যেগুলি ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে পড়ে। এক. তিনি লোকসভার পোর্টালের পাসওয়ার্ড ব্যবসায়ী দর্শন হীরানন্দানিকে দিয়েছিলেন। এটা জাতীয় সুরক্ষার জন্য কতটা বিপজ্জনক তা যেন ভারত সরকার সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে দিয়ে তদন্ত করায়।
দুই. মহুয়ার বিরুদ্ধে উপহার নিয়ে প্রশ্ন করার অভিযোগ রয়েছে। এই দুটি ফৌজদারি অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার এক্তিয়ার এথিক্স কমিটির নেই। এই কাজ সরকারের সংশ্লিষ্ট এজেন্সির।
এথিক্স কমিটির এই সুপারিশ থেকে তৃণমূলের অনেকের ধারনা, কৃষ্ণনগরের প্রাক্তন সাংসদের বিরুদ্ধে এরপর ইডি-সিবিআই-এনআইএ-র তদন্ত শুরু হতে পারে। এথিক্স কমিটির কাছে জমা পড়া অভিযোগে আর্থিক লেনদেনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ইডির তদন্তের কোনও বাধা নেই। সিবিআই ও এনআইয়ের তদন্তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। জাতীয় সুরক্ষা সংক্রান্ত যে কোনও বিষয়ে তদন্তের এক্তিয়ার রয়েছে এনআইএ-র।
ফলে লোকসভার সদস্যপদ কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমেই মহুয়ার বিরুদ্ধে বিজেপি তথা সরকার পক্ষের লড়াই থেমে গিয়েছে এমনটা মনে করছে না জোড়াফুল শিবিরের অনেকেই। ২০০৫-এ টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন করার অভিযোগে ১২জন সাংসদের সদস্য পদ খারিজ হয়ে গিয়েছিল। তখন সংসদের তদন্ত কমিটি সরকারকে অনুসন্ধান বা তদন্তের কোনও সুপারিশ করেনি। ফলে ইডি-সিবিআইয়ের তদন্তের প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু মহুয়ার ক্ষেত্রে এথিক্স কমিটি কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছে। এখন দেখার অমিত শাহের মন্ত্রক এই ব্যাপারে কী পদক্ষেপ করে।