হায়দরাবাদ-সহ গোটা তেলেঙ্গনা জুড়ে চালানো অভিযানে ৩,৬৯৯টি গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডার এবং ৭০টি ছোট সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করেছে সিভিল সাপ্লাইস দফতর। ১২ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে এই অভিযান চালানো হয় বলে রিপোর্টে জানা গেছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 April 2026 13:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রের হাজার প্রচার সত্ত্বেও জ্বালানি সরবরাহ ঘিরে উদ্বেগ খুব একটা কমছে না। দেশে এলপিজির জোগান পর্যাপ্ত কালোবাজারি (LPG black marketing India) রুখতে তৎপর প্রশাসন - এই বার্তার মধ্যেই তেলেঙ্গনায় বড়সড় অভিযানে উদ্ধার হল বিপুল সংখ্যক মজুত করে রাখা এলপিজি সিলিন্ডার (Telangana LPG cylinder seizure)। আইনি পদক্ষেপও করছে কেন্দ্র, এমনই তথ্য সামনে এসেছে বলে জানাচ্ছে এনডিটিভি।
আরব দুনিয়ার সংঘাত ঘিরে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ (fuel supply crisis India) বাড়তেই দেশে কড়া নজরদারি শুরু করেছে প্রশাসন। সেই প্রেক্ষিতেই হায়দরাবাদ-সহ গোটা তেলেঙ্গনা জুড়ে চালানো অভিযানে ৩,৬৯৯টি গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডার এবং ৭০টি ছোট সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করেছে সিভিল সাপ্লাইস দফতর। ১২ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে এই অভিযান চালানো হয় বলে রিপোর্টে জানা গেছে।
এই অভিযানে মোট প্রায় ১.১০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছে। কালোবাজারি ও গৃহস্থালি গ্যাসের বেআইনি বাণিজ্যিক ব্যবহারের অভিযোগে ৬এ ধারায় ১,২৭৫টি মামলা এবং ২১৬টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
প্রসঙ্গত, মার্চে শুধু ছত্তিসগড়ের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে মোট ৭৪১টি এলপিজি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল সেই রাজ্যের প্রশাসন।
জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সতর্কতা, আতঙ্কে কেনাকাটায় নিষেধাজ্ঞা
এই অভিযান এমন সময় হয়েছে, যখন আরব দুনিয়ায় সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদের আতঙ্কে অতিরিক্ত মজুত করে না রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গুজবের জেরে কয়েকটি রাজ্যে পেট্রোল পাম্পে অস্বাভাবিক ভিড় এবং বিক্রি বেড়ে গিয়েছিল। তবে দেশের সব পেট্রোল পাম্পেই পর্যাপ্ত পেট্রোল ও ডিজেলের মজুত রয়েছে - এমনই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
দেশজুড়ে অভিযান, হাজার হাজার সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রায় ১২ হাজার অভিযান চালানো হয়েছে। তাতে ১৫ হাজারের বেশি এলপিজি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের জয়েন্ট সেক্রেটারি সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, এলপিজি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও কোথাও সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
তিনি আরও জানান, সোমবার প্রায় ৭০ হাজার “প্যানিক বুকিং” হয়েছে এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য। তবে ব্যবহারকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে বিকল্পের কথা ভাবার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে ৯৪ শতাংশ গৃহস্থালি এলপিজি বুকিং অনলাইনেই হচ্ছে। ব্যবহারকারীদের এই পদ্ধতিই চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডেলিভারি অথেনটিসিটি কোড (DAC)-এর ব্যবহার বেড়ে ৭৬ শতাংশে পৌঁছেছে বলেও জানিয়েছেন সুজাতা শর্মা।
বিভিন্ন রাজ্যে নির্দেশ, জাহাজ চলাচলেও নজর
এই পরিস্থিতিতে বিহার, দিল্লি, হরিয়ানা, রাজস্থান, মণিপুর, গুজরাত, হিমাচল প্রদেশ, কর্নাটক এবং উত্তরাখণ্ড-সহ একাধিক রাজ্যে নন-ডোমেস্টিক এলপিজি বরাদ্দের নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
এদিকে, জাহাজ চলাচল নিয়েও আপডেট দিয়েছেন শিপিং মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা। তাঁর কথায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা ২২টি জাহাজ ও নাবিক সকলেই নিরাপদে রয়েছেন।