এই দুর্ঘটনার সময় যুবরাজ তাঁর বাবাকেও ফোন করেন। ফোনে বলেন, “বাবা, খুব গভীর কুয়োর গর্তে পড়ে গেছি। ডুবে যাচ্ছি। আমাকে বাঁচাও, আমি মরতে চাই না।”

নয়ডায় টেকির মৃত্যু
শেষ আপডেট: 18 January 2026 14:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘন কুয়াশার জেরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা (Noida accident)! নয়ডায় নির্মীয়মাণ কুয়োয় পড়ে গিয়ে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ২৭ বছরের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহেতার (Yuvraj Mehta accident)। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চালিয়েও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশ, ডুবুরি এবং এনডিআরএফ-এর দল উদ্ধার কাজে নেমেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে, নয়ডার সেক্টর ১৫০-এর কাছে। কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন যুবরাজ। ওই জায়গায় একটি বড় বাঁক থাকায় নির্মীয়মাণ মলের বেসমেন্টের গর্তটি রাস্তার খুব কাছেই ছিল। অভিযোগ, সেখানে ছিল না কোনও ব্যারিকেড, না সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, এমনকি পর্যাপ্ত আলোও ছিল না (Techie drowns Noida)। কুয়াশার রাতে সেই বিপজ্জনক জলভরা গর্ত মোটেই দেখা যাচ্ছিল না।
স্থানীয় কিছু মানুষ প্রথমে যুবরাজের চিৎকার শুনে ছুটে আসেন। চোখে পড়তেই দেখা যায়, গাড়ির ভিতর থেকে টর্চ দেখিয়ে সাহায্য চাইছেন যুবরাজ। সেই দৃশ্য দেখে এগিয়ে আসেন মনিন্দর নামে এক ডেলিভারি এজেন্ট (Delivery agent heroic attempt)। তিনি জানান, দমকল বা উদ্ধার কর্মীরা প্রথমে ওই গভীর কুয়োর নীচে নামতে চাইছিলেন না। তখনই তিনি নিজে কোমরে দড়ি বেঁধে গর্তে ঝাঁপ দেন(Noida rescue operation)। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছে। যুবরাজের মৃত্যু হয়ে গেছে।
মনিন্দর দাবি করেন, প্রায় দশ দিন আগে একই গর্তে একটি ট্রাকও পড়েছিল। অথচ প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। সেই অব্যবস্থাপনাই বড় দুর্ঘটনার কারণ বলে অভিযোগ তাঁর।
এই দুর্ঘটনার সময় যুবরাজ তাঁর বাবাকেও ফোন করেন। ফোনে বলেন, “বাবা, খুব গভীর কুয়োর গর্তে পড়ে গেছি। ডুবে যাচ্ছি। আমাকে বাঁচাও, আমি মরতে চাই না।” ছেলের ফোন পেয়ে তড়িঘড়ি পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন রাজকুমার মেহতা। পুলিশ, ডুবুরি ও এনডিআরএফ মিলিয়ে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে উদ্ধার অভিযান। শেষে গাড়ি ও যুবরাজকে জল থেকে তোলা হয়। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
ঘটনার পর যুবরাজের পরিবার অভিযোগ দায়ের করেছে। তাঁদের দাবি, রাস্তার ধারে ড্রেন বা গভীর গর্ত ঢেকে রাখা হয়নি। কুয়াশার মধ্যে কোনও রিফ্লেক্টর বা সাইনবোর্ড না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। জ্ঞানকুঞ্জ থানার পুলিশ আশ্বস্ত করেছেন, কারও অবহেলা প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।