বস্তারজুড়ে গত কয়েক বছরে শিক্ষাদূতদের টার্গেট করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, পুলিশকে তথ্য সরবরাহের সন্দেহেই তাঁদের খুন করছে নকশালপন্থীরা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 30 August 2025 19:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছত্তীসগড়ের বিজাপুরে ফের ঝরল রক্ত। নকশাল এলাকায় শিক্ষাদূত (Shiksha Doot) প্রকল্পের আওতায় কর্মরত এক অস্থায়ী শিক্ষককে নৃশংসভাবে খুন করা হল। শনিবার সকালে ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। মৃতের নাম কল্লু তাতি (২৫)। তিনি টোডকা গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় স্কুলে পড়াতেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, গ্যাংলুর থানা এলাকার টোডকা গ্রামে কয়েকজন দুষ্কৃতী ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় তাতির ওপর। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। যদিও কোনও নকশালি পত্র বা পোস্টার উদ্ধার হয়নি, পুলিশের সন্দেহ, হামলার পিছনে নকশালদের হাত রয়েছে। ঘটনার পরই নিরাপত্তাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করেছে।
বস্তারজুড়ে গত কয়েক বছরে শিক্ষাদূতদের টার্গেট করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, পুলিশকে তথ্য সরবরাহের সন্দেহেই তাঁদের খুন করছে নকশালপন্থীরা। শুধু এ বছরেই সাতজন অস্থায়ী শিক্ষক খুন হয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে চলতি বছর।
গত ২৭ অগস্ট সুকমা জেলায় খুন হন এক অস্থায়ী শিক্ষক। তার আগে নারায়ণপুরে একইভাবে খুন হন আরেক শিক্ষক। গত মাসেই বিজাপুরের ফারসেগড়ে খুন হন দু’জন শিক্ষাদূত। ফেব্রুয়ারিতে দান্তেওয়াড়ায় শিক্ষক-সহ গ্রামবাসীকে মেরে ফেলা হয়।
পুলিশের হিসাব বলছে, এ বছরই বস্তারজুড়ে ৩০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন নকশাল-হিংসায়। শুধু ২০২৫ সালে ২৪ জন সাধারণ মানুষ খুন হয়েছেন। যা গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া অভিযান নকশালদের চাপে ফেলেছে বলেই এমন প্রতিশোধমূলক হামলা বাড়ছে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
নকশাল অধ্যুষিত এলাকায় বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলগুলি ফের চালু করার জন্য চালু করা হয়েছিল শিক্ষাদূত প্রকল্প। কিন্তু একের পর এক খুন এই প্রকল্পের উপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, নকশালদের চোখে এই শিক্ষকরা সরকারি প্রভাব বিস্তারের প্রতীক। ফলে তাঁদের জীবন এখন মৃত্যুর মুখে ঝুলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুষ্কৃতীদের ধরতে তল্লাশি শুরু হয়েছে। পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, 'এই নৃশংস খুনের বিচার হবেই। আমরা নকশাল প্রভাবিত এলাকাগুলি সাফ করার কাজ চালিয়ে যাব।'